বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২০

শ্রেষ্ঠত্বের দাবীদার একমাত্র নবী-বংশই


 শ্রেষ্ঠত্বের দাবীদার একমাত্র নবী-বংশই | নবী-বংশের মর্যাদা 

----------------------------------------



এ কথা দিবালােকের চেয়েও সত্য যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পবিত্র বংশ হচ্ছে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ বংশ। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বংশ ব্যতিত পৃথিবীর আর কোন বংশ পরস্পরের মধ্যে শ্রেষ্ঠত্বের দাবি করতে পারেনা। সমগ্র মানবজাতির মধ্যে নবীরাই শ্রেষ্ঠ।


যেমন,ইমাম  ফখরুদ্দীন রাজী বলেন,


افضل النوع الانسان-كما قال الفخر الرازی


অর্থাৎ, হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলাইহি ওয়াসাল্লাম'র বংশ হচ্ছে, মানব জাতির শ্রেষ্ঠতম বংশ।” আবার নবীদের মধ্যে আমাদের আক্বাও মাওলা সায়্যিদুনা মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লামই শ্রেষ্ঠ।



আয়াত ১ঃ

-------------

আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন,


تلك الرسل فضلنا بعضهم على بعض من كم من گلم الله ورفع بعضهم درجات


অর্থাৎ, “এই সম্মানিত রাসূলগণ। তাঁদের কারাে একজনের ওপর অপরকে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছি। তাঁদের মধ্যে কারাে কারাে সাথে আল্লাহ কথা বলেছেন, আবার কাওকে উচ্চ মর্যাদায় উন্নীত করেছেন।” 


[সূরা বাক্বারা; আয়াত: ২৫৩]



এ আয়াত দ্বারা বুঝা যায় যে, রাসূলগণ প্রত্যেকে শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারী। তবে তাঁদের মধ্যে, মর্যাদার স্তরবিন্যাস রয়েছে। আর এটাও বুঝা গেল যে, নবী-রাসূলদের মধ্যকার মর্যাদার স্তরবিন্যাসে সর্বোচ্চ স্তরে আমাদের প্রিয় নবী, খাতামুন্নবিয়্যীন, হুজুর পাক সাল্লাহু তা'আলা আলাইহি ওয়াসাল্লাম রয়েছেন। আর হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে অন্য নবী রাসূলদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ তাঁর প্রমাণ হচ্ছে, তিনি পবিত্র মেরাজের রজনীতে সমস্ত নবী-রাসূল আলাইহিমুস সালামের নামাযে ইমামতি করেছেন, যা সহীহ বুখারী শরীফের হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত। কেননা, শ্রেষ্ঠজনই ইমামতি করে।



হাদিস ১ঃ

------------


রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন,


حدثنا إسحاق بن نصر : حدثنا حسين ، عن زائدة، عن عبد الملك ابن عمير، قال : حدثني أبو بردة، عن أبي موسى، قال: مرض النبى صلى الله عليه وسلم ، فاشتد مرضه، فقال: مروا أبا بكر فليصل بالناس قالت عائشة: إنه رجل رقيق، إذا قام مقامک لم يستطع أن يصلى بالناس، قال: مروا أبا بگر فلیصل بالناس فعادت,فقال: مری أبا بكر فليصل بالناس، فإنکن صواحبیوسف فأتهالرسول, فصمی بالناس في حياة النبي صلى الله عليه وسلم -



এই হাদীছের ব্যাখায় বুখারী শরীফের ব্যাখ্যাকার আল্লামা ইবনু রজব হাম্বলী বলেন,


استدل البخارى بهذا الحديث على أن أهل الفضل والعلم أحق بالإمامة من غيرهم؛ فإن النبي (أمر أبا بكر من بين الصحابة كلهم بالصلاة بالناس، وروجع في ذلك مرارأ وهويابي إلا تقديمه في الصلاة على غيره من الصحابة، وإنما قدمه لعلمه وفضله؛ فأما فضله على سائر الصحابة فهو ما اجتمع عليه أهل السنة والجماعة، و أما علمه فكذلك.


অর্থাৎ, “এই হাদীছ দ্বারা ইমাম বুখারী রাহমাতুল্লাহি তা'আলা আলাইহি দলীল পেশ করেছেন যে, শ্রেষ্ঠজন এবং জ্ঞানীগণই অন্যদের চেয়ে ইমামতির জন্য অধিক উপযুক্ত। কেননা, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবাদের অনেকে উপস্থিত থাকলেও হযরত আবু বকর রাদ্বিআল্লাহু তা'আলা আনহুকেই মানুষের নামাযে ইমামতি করার আদেশ করেছেন। অথচ (হযরত আবু বকর রাদ্বিআল্লাহু তা'আলা আনহুর হৃদয়ের কোমলতার কারণে) বার বার তাঁকে ইমামতির আসনে না দেয়ার অনুরােধ সত্বেও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লহু তা'আলা আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে ছাড়া অন্য কোন সাহাবাকে ইমামতিতে অগ্রগামী করতে অস্বীকার করেন। আর তিনি সাল্লাল্লহু তা'আলা আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে (হযরত আবু বকর রাদ্বিআল্লাহ তা'আলা আনহুকে) প্রাধান্য দেয়ার কারণ হচ্ছে, তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব ও জ্ঞান। আর সমস্ত সাহাবার ওপর হযরত আবু বকর রাদ্বিআল্লাহু তা'আলা আনহুর শ্রেষ্ঠত্ব এবং অধিক জ্ঞানের ব্যাপারে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা'আতের ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত।


[ফতহুল বারী ফী শরহিল বুখারী; কৃত-ইবনু রজব আল হাম্বলী রাহমাতুল্লাহি আলাইহি]



একই হাদীছের ব্যাখায় বুখারী শরীফের ব্যাখ্যাকার আল্লামা ইবনু রজব হাম্বলী আরাে বলেন,

وقليل اللیث: یٶمهم أفضلهم وخیر هم,ثم أقر ٶهم,ثم أسنهم


অর্থাৎ,“আর ইমাম লাইছ বলেন, লােকদের ইমামতি করবে (প্রথমত) তাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারী এবং উত্তম ব্যক্তি, অতঃপর তাদের মধ্যে অধিক বিশুদ্ধভাবে কুরআন তিলাওয়াতকারী, অতঃপর তাদের মধ্যে অধিক বয়স্কজন।”


[ফতহুল বারী ফী শরহিল বুখারী; কৃত-ইবনু রজব আল হাম্বলী রাহমাতুল্লাহি আলাইহি]


হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে অনন্য সৃষ্টি, সমস্ত মানবজাতি এমনকি নবী-রাসূলদের চেয়েও শ্রেষ্ঠ। 



হাদিস ২ঃ

------------


রাসুলুল্লাহ (দ.) ইরশাদ করেন,


عن أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال النبي صلى الله عليه وسلم: "أنا سيد ولد آدم ولا فخر، وأول من ينشق عنه القبر، وأول شافع، وأول مشفع" رواه مسلم.


অর্থাৎ, “আমি আদমসন্তানদের সায়্যিদ তথা শ্রেষ্ঠত্ব ও নেতৃত্বের আসনে অধিষ্ঠিত, আর এতে আমার কোন অহংকার নাই। আর কিয়ামতের দিন সর্ব প্রথম আমার কবরই খোলা হবে। আমিই প্রথম শাফা'আতকারী (সুপারিশকারী), আমার সুপারিশই প্রথম কবুল (গ্রহণ) করা হবে।”


[সহীহ মুসলিম শরীফ]




সহীহ মুসলিম শরীফের ব্যাখ্যাকার আল্লামা ইমাম নববী রাহমাতুল্লাহি তা'আলা আলাইহি বলেন,


وهذا الحديث دليل لتفضيله صلى الله عليه وسلم على الخلق كلهم، لأن مذهب أهل السنة أن الآدميين أفضل من الملائكة وهو صلى الله عليه وسلم أفضل الادیین وغیر هم"


অর্থাৎ, “এই হাদীছ সমগ্র সৃষ্টির ওপর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম'র শ্রেষ্ঠত্বের দলীল। কেননা, আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা'আতের মতে, সমস্ত আদম সন্তান ফেরেস্তা থেকে উত্তম আর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সমস্ত আদম সন্তান ও অন্যান্য সৃষ্টির চেয়েও শ্রেষ্ঠ।”


[শরহু সহীহিল মুসলিম; কৃত, আল্লামা ইমাম নববী রাহমাতুল্লাহি তা'আলা আলাইহি]


_________________


কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

এর নাম কি ইসলাম?

ধইরালা,কাইট্টালা,মাইরালা,জবাই কর,তুই বেদাতি, তুই মাজার পূজারী,তুই শিন্নী খোর-ইসলামে শিন্নী নিষেধ, তুই জিলাপি খোর-জিলাপি খাওয়া বেদাত -এসবের জ...