সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২০

এর নাম কি ইসলাম?

ধইরালা,কাইট্টালা,মাইরালা,জবাই কর,তুই বেদাতি, তুই মাজার পূজারী,তুই শিন্নী খোর-ইসলামে শিন্নী নিষেধ, তুই জিলাপি খোর-জিলাপি খাওয়া বেদাত -এসবের জিকির করার নামই কি ইসলাম?

আবু হুরাইরা(রা) হতে বর্ণিত,রাসূল(স) ইরশাদ করেনঃ নিশ্চয়ই দ্বীন সহজ-সরল।দ্বীন নিয়ে যে বাড়াবাড়ি করে দ্বীন তার উপর বিজয়ী হয়।কাজেই তোমরা মধ্যপন্থা অবলম্বন কর এবং (মধ্যপন্থার) নিকটবর্তী থাক, আশান্বিত থাক এবং সকাল-সন্ধায় ও রাতের কিছু অংশে (ইবাদতের মাধ্যমে) সাহায্য চাও।
[ সূত্রঃসহিহ বোখারী(ই.ফা) ,খন্ড-১,পৃষ্ঠা-৩১,হাদিস নং-৩৮]

মসজিদ ভাঙ্গা আর মুসলমানদের হত্যা করার নামই কি ইসলাম?

মুখে বেদাত, শিরিকের জিকির করে যারা ফেনা তুলে তারাই সাহাবিদের মাজার গুলো ভেঙ্গে ফেলেছিল।তারাই প্রিয় নবীজী(স) এর রওজা মোবারক ভেঙ্গে ফেলার চক্রান্ত করেছিল,তারা আজও মাজার শরীফ গুলোতে গুপ্ত হামলার মাধ্যমে বোমাবাজি করে,মাজার শরীফ ভেঙ্গে ফেলার হুমকি দেয়।এই গুপ্ত হামলার সহিহ দলিল কোথায়?বোমাবাজি করাকে কি তারা সুন্নত বলবে(নাউজুবিল্লাহ) নাকি এই বোমাবাজিও একটি নোংরা বেদাত?তারা বোমা মেরে আল্লাহর ঘর মসজিদ গুলো ভেঙ্গে ফেলছে আর নাম ব্যবহার করছে ইসলামের। সারা পৃথিবীতে মুসলমানদের পরিচয় দিয়েছে সন্ত্রাসী হিসেবে। এর নাম কি ইসলাম?বেদাত নিষিদ্ধ। তবে ইসলামের নামে, জিহাদের নামে এই সকল নোংরা বেদাত গুলো কি নিষিদ্ধ নয়? নবীজীকে সালাম দিলে,নবীজীর উপর দরুদ পড়লে "তুই বেদাতি" আর বোমা মেরে মুসলমানদের হত্যা করলে,মসজিদ ভাংলে "ও সাচ্চা ইসলাম হে"!! বাহ মুসলমান, বাহ! এর নামই কি ইসলাম?

নবীজীর শানে বর্ণিত হাদিস গুলোকে অস্বীকার করা, লুকিয়ে রাখা,জাল হাদিস বলা,কেবল তৌহিদের কথা বলে রেসালাতকে পাশ কাটিয়ে যাওয়া -এসবের নামই কি ইসলাম?


আহলে বাইতের ব্যাপারে চুপ থাকা।আহলে বাইতের শানে বর্ণিত কোরআনের আয়াত ও হাদিস শরীফ গুলো বর্ণনা না করা,নবীজী(স) সকল মুসলমানদের কাছে যে বিনিময় চেয়েছেন তা রক্ষা না করার নামই কি ইসলাম?

পবিত্র কোরআনে বর্ণিত হয়েছে,
"হে মাহবুব! আপনি বলে দিন, আমি এ (পথ প্রদর্শন ও ধর্ম প্রচার)'র বিনিময়ে তােমাদের নিকট হতে আমার আহলে বাইত এর ভালােবাসা ব্যতীত অন্য কোন প্রতিদান চাই না।
                        [সূরা শুরা-২৩] "


যে নজদের প্রতি নবী করিম(স) অভিশাপ দিয়েছেন এবং নজদ থেকে শয়তানের শিং বেরুবে বলেছেন, সেই নজদ থেকে উথিত ধর্ম মতের অনুসরণ করার নামই কি ইসলাম? 

    শয়তানের শিং সম্পর্কিত
হাদীসঃ
যারা ইহুদি খ্রিস্টানদের সাথে আতাত করে চলে তাদের চাপিয়ে দেওয়া ধর্ম মতের অনুসারী হওয়াই কি ইসলাম?কথায় কথায় সেই সৌদির হাইকোর্ট দেখানো যারা মূলত আমেরিকা ও ইজরায়েলের পা চাঁটা গোলাম-সেই সৌদির অনুসরণে ধর্ম পালন করাই কি ইসলাম?হ্যা, আরবে নবী করিম(স) এর জন্ম। কিন্তু রাসূল(স) জাহেরীভাবে আগমনের পর ১৪ টি শতাব্দী পেরিয়ে গেছে এবং ১২ টি শতাব্দী পর্যন্ত এই আরবে ইসলামের যেই রুপরেখা ছিল তা গলা টিপে হত্যা করার সমস্ত আয়োজন যে বর্তমান সৌদি আরব করেছে এবং করছে সেই কথা কি ভুলেও একবার মনে উদয় হয় না?সহিহ হাদিস আর বেদাত শিরিকের জিকির করে শত বেদাতে লালিত মিথ্যুকদের মিথ্যার বন্যায় ইসলামকে কলুষিত করার যে চক্রান্ত চলছে,অন্তরালে তার কলকাটি নাড়ছে ইহুদিরা।তবুও মুসলমান আগুনকে অমৃত ভেবে উইপোকার মতো ঝাপিয়ে পরছে আগুনে।

শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২০

মাজার পূজারী

শব্দ যুদ্ধের অস্ত্র-"মাজার পূজারি"
◆━━━━━━◆❃◆━━━━━━◆
◆━━━━━━◆❃◆━━━━━━◆



 

 💧আমরা পবিত্র ক্বাবা শরীফের দিকে মুখ করে সিজদা করি।আমরা কি ক্বাবা শরীফের পূজা করি নাকি আল্লাহর ইবাদত করি? 

 💧হাজরে আসওয়াদ পাথরে চুম্বন করে আমরা কি পাথর পূজা করি নাকি আল্লাহর ইবাদত করি? 

 💧লাইলাতুল নিফসি মিন সাবানের রাত্রিতে হুজুর আকরাম(স) সাহাবিদের কবরের পাশে গিয়ে দোয়া করেছিলেন(সূত্রঃবোখারী শরীফ)।এটা কি করব পূজা(নাউজুবিল্লাহ) নাকি ইসলামিক ইবাদত? 

 💧ক্বাবা শরীফের আশেপাশে অনেক নবী(আ) গনের রওজা শরীফ রয়েছে।আমরা কি মক্কায় হজ্জ করতে যাই নাকি মাজার পূজা ও কবর পূজা করতে যাই?

আমরা কখনো মাজার শরীফের ইবাদত করতে মাজার শরীফে যাই না।আমরা মাজার জিয়ারত করতে যাই।আল্লাহর অলির উছিলায় আল্লাহর কাছে চাই। উছিলাকে আল্লাহ পাক নিজেই পবিত্র কোরআনে হালাল করেছেন।যারা উছিলা অস্বীকার করে তারা মূলত পবিত্র কোরআনকেই অস্বীকার করে। আর যারা কোরআনকে অস্বীকার করে তারা আল্লাহকেই অস্বীকার করে।যারা উছিলা অস্বীকার করে তারা তাদের মা বাবাকে অস্বীকার করে।কেননা মা বাবার উছিলায় আল্লাহ তাদেরকে দুনিয়ায় প্রেরণ করেছেন।তাই আল্লাহর অলিদেরকে ভালোবেসে উনাদের মাজারে জিয়ারত করতে গেলে মাজার পূজা হয় না,যেমনি ভাবে ক্বাবা শরীফে জিয়ারত করলে ক্বাবার পূজা হয় না, হাজরে আসওয়াদে চুম্বন করলে পাথর পূজা হয় না।ক্বাবার আশেপাশে অনেক নবী(আ) গনের রওজা থাকা সত্বেও সেখানে সিজদার কারনে মাজার পূজা হয় না। মাজার পূজা কেবলই শব্দ যুদ্ধের একটি অস্ত্র। কারন ওহাবি ফেরকা যখন ওহাবি নামের যাতাকলে পিষ্ট, তখন নিজেদের অন্তরের প্রশান্তি ও ওহাবি নামকে পর্দার অন্তরালে নেয়ার অস্ত্র হিসেবে কোরআন সুন্নাহ বিরোধী অস্ত্র হিসেবে তারা মাজার পূজারী শব্দটিকে চয়ন করে নিয়েছে।তাদের কামনা বাসনা হলো যাদের মাধ্যমে আমরা ইসলাম পেয়েছি "মাজার পূজারী" শব্দের ইয়াজিদী অস্ত্র দ্বারা ওই সমস্ত ইসলাম প্রচারক আউলিয়া কেরাম থেকে আমাদেরকে দূরে সরানো।ইয়াজিদ পূজারী এই সকল লোক থেকে আল্লাহ পাক আমাদের ঈমান ও আমলকে রক্ষা করুক।

ইসলামিক ছবি


বেদাতি

বেদাতের ঝান্ডা হাতে আমি খুঁজে ফিরি শত শত বেদাতিঃ
             ─━━━━━━⊱✿⊰━━━━━━─
                 ─━━━━━━⊱✿⊰━━━━━━─
                      ─━━━━━━⊱✿⊰━━━━━━─




   আমি বেদাতি, আপনি বেদাতি তো?

   আমি বেদাতের সমর্থন করি,আপনি করেন তো?

    টাকার বিনিময়ে কন্ট্রাক্ট করে ওয়াজ করা নবী করিম(স) এর সুন্নত নয়।এটা সমাজের মোল্লা মুন্সিদের বেদাত।আমি সেই মুন্সিদের বেদাত সমর্থনকারী।আমি দাতা হয়ে সেই বেদাতের অংশীদারও বটে।

     আমি মাদ্রাসার ছোট বাচ্চাদের নিয়ে টাকা তোলার জন্য বের হই।এটা নবীর সুন্নত নয়, বরং বেদাত।

     আমি করুন সুরে মাইক নিয়ে রাস্তায় রাস্তায় টাকা চাই। এটা নবীর সুন্নত নয়, বরং বেদাত।

     আমি ডক্টরেট,মুফতি,আল্লামার টাইটেল পকেটে নিয়ে ঘুরি।এই টাইটেল নবীজীর ক্ষেত্রে ব্যবহার হয় না,সাহাবিদের ক্ষেত্রেও না।এটি একটি বেদাত।তাই আমি বেদাতি। 

     আমি ওয়াজ করতে গিয়ে মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য হেলিকপ্টারে ঘুরি।এটা নবীজী(স) এর সুন্নত নয়, বরং বেদাত। 

     আমি এসির বাতাসে মনোরম পরিবেশে পাকা দালান ঘরে নামাজ পড়ি।এটা নবীজী(স) এর সুন্নত নয়, বরং বেদাত।তাই আমি বেদাতি।

     আমি ফেসবুকের মুফতি,আমি ইউটিউবের বাদশা,গুগল শায়েখ।টাকা দিয়ে আমার ওয়াজ নসিহত প্রমোট করি।এটা নবীজি(স) এর সুন্নত নয়, বরং বেদাত। আমি একজন বেদাতি। 

     আমি মাদ্রাসার কোমলমতি শিশুদের বেত্রাঘাতে জর্জরিত করি।এটা নবীজী(স) এর সুন্নত নয়। এটা বেদাত।তাই আমি বেদাতি। আপনি বেদাতি তো? 

     আমি বোখারী শরীফ,মুসলিম শরীফকে বেশি বিশ্বাস করি। এটা না লিখেছেন নবীজী(স),না লিখেছেন সাহাবায়ে কেরাম।আমাদের ধর্মের পূর্ব পুরুষ তথা বাপ দাদারাই লিখেছেন এই কিতাব। আমি সেই বাপ দাদার কিতাবের অনুসারী।তাই আমি বেদাতি। আপনি বেদাতি তো?

      মোল্লা মুন্সি স্টেজে উঠলে আমি স্লোগানে মুখরিত করি।আবার নবীর নামে স্লোগান দিলে তথাকথিত মোল্লা মুন্সির বক্তব্যে আমি বেদাতি হয়ে যাই।হ্যা ভাই,আমি বড় বেদাতি। 

সমকামিতার সার্টিফিকেটধারীরা আজ ঘুরে ফিরে গাট্টিতে বেদাতের সার্টিফিকেট নিয়ে।সমকামীদের স্লোগান আজ,

    "একটা একটা বেদাতি ধর,
     ধইরা ধইরা জবাই কর।"

আমি বলবো, তবে আগে নিজের গলায় ছুড়ি চালাও।তবুও সমকামিতার বিচার বাকি থাকবে।

ওহাবি কি?

ওহাবি কাকে বলে? 





  ওহাবিকে বহু ভাবে সংজ্ঞায়িত করা যায়। তবে আমার কাছে মনে হয়,

"যারা শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা করে তাদেরকে ওহাবি বলে।"

বিশ্লেষণঃধর্মে নতুনত্ব হলো বেদায়াত।রাসূল(স) এর ওফাতের ১২৫০ বৎসর পরে কোরআন ও হাদিসের বিকৃত ব্যাখ্যা সহ যে মতবাদের উদ্ভব হয় সেটিই হলো ওহাবি ফেরকা।নিঃসন্দেহে ১২৫০ বৎসর পরে সৃষ্ট হওয়ায় এটি একটি নতুন ফেরকা তথা বেদায়াতি ফেরকা। তারা যে বেদায়াতি ফেরকা তা আড়াল করার জন্য হক্বপন্থীদেরকে তারা উল্টো বেদায়াতি বলে ডাকে।একটা মিথ্যা বার বার বলতে বলতে কোন এক সময় ঐ মিথ্যাটাই অনেক মানুষ সত্য হিসেবে ধরে নেয়।ওহাবিরা ঠিক এই কৌশলটাকেই কাজে লাগাচ্ছে।  চোরের মায়ের বড় গলা বলে একটা কথা আছে। সেই কথাটির শত ভাগ প্রতিফলন হলো ওহাবিদের শব্দ যুদ্ধের ব্যবহৃত এই ডায়লগ। এ যেন শাক দিয়ে মাছ ঢাকার এক নিরলস প্রচেষ্টা।

উছিলা বা মাধ্যম


মাধ্যম বা উছিলাঃ
∴━━━✿━━━∴




❏নবী করিম(স) এর উছিলায় আমরা ইসলাম পেয়েছি। 

❏আল্লাহ পাক সত্য ধর্মকে দুনিয়ায় প্রতিষ্ঠিত করার জন্য সকল নবী রাসূলগনকে মাধ্যম বা উছিলা বানিয়েছেন। 

❏হযরত আদম(আ) ও মা হাওয়া(আ) এর উছিলায় মানব জাতির সূচনা হয়েছে। 

❏সাহাবীগনের উছিলায় বিভিন্ন দেশে ইসলাম প্রচার হয়েছে। 

❏আল্লাহ পাক হযরত শাহজালাল(রহঃ) সহ অনেক অলি আউলিয়াকে বাংলার জমিনে ইসলামের আলো পৌঁছে দেয়ার উছিলা বানিয়েছেন। 

❏আল্লাহ পাক হযরত খাজা মঈনউদ্দীন হাসান চিশতি আজমেরী সঞ্জেরী(রহঃ) কে ভারতের জমিনে ইসলাম প্রচারের মাধ্যম বা উছিলা বানিয়েছেন। 

❏আমাদের সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ আমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন। কিন্তু দুনিয়ায় প্রেরণের জন্য মা বাবাকে উছিলা বানিয়েছেন। 

❏আল্লাহকে পাবার জন্য ইবাদত করতে হয়।এটিও একটি মাধ্যম বা উছিলা। 

❏ইবাদতের জন্য পবিত্র ক্বাবা শরীফকে আল্লাহ পাক অধিক পছন্দ করেছেন। ক্বাবা শরীফও একটি উছিলা বা মাধ্যম। 

❏ধর্মকে চেনা ও জানার জন্য কিতাব দিয়েছেন। এই কিতাবও ইসলামকে জানার ও আল্লাহকে পাবার মাধ্যম। 

❏কিতাবগুলো আমাদের পর্যন্ত পৌঁছে দিতে অনেক আলেম উছিলা হয়েছেন। 

❏আল্লাহই সব কিছু করেন।তবে দুনিয়ায় অনেক কার্য সিদ্ধ করতে মানুষ উছিলা হয়।

❏যারা উছিলাকে হারাম বলে চিল্লাইয়া গলা ফাটাতে ভালোবাসেন তাদের সবাই ফেসবুক ও ইউটিউবের উছিলায় নিজেকে জনপ্রিয় করে তুলেছেন এবং জনপ্রিয় করে তোলার চেষ্টা করছেন।

  তারপরও যদি উছিলা হারাম ও শিরক হয়ে যায় তবে,উল্লেখিত সব গুলো পয়েন্টই হারাম ও শিরক হয়ে যায়।পাশাপাশি পবিত্র কোরআন থেকে সুরা মায়েদার ৩৫ নম্বর আয়াতটাকে ডিলিট করে দিতে হয়।জানি, তারপরেও উছিলার কথা বললে আপনি বলবেন "মাজার পূজারী"!আপনার অন্ধ চোখটাতে স্কচটেপ লাগিয়ে সিলগালা করে দিয়েছে কিছু মোল্লা মুন্সি। তাই চোখের সামনের বাস্তবতাকেও দেখতে পান না।এবার পবিত্র কোরআনে অন্ধ বলতে কাদের বুঝানো হয়েছে সেটা আপনি না বুঝলেও জ্ঞানীরা অবশ্যই বুঝবে।

এর নাম কি ইসলাম?

ধইরালা,কাইট্টালা,মাইরালা,জবাই কর,তুই বেদাতি, তুই মাজার পূজারী,তুই শিন্নী খোর-ইসলামে শিন্নী নিষেধ, তুই জিলাপি খোর-জিলাপি খাওয়া বেদাত -এসবের জ...