শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২০

মহররমে কেন শোক পালন করবেন?

মহররমে কেন শোক পালন করবেন? 


      আমাদের প্রিয় দো-জাহানের বাদশা নবী করিম(স) উনার উম্মতের কাছে একটি বিনিময় চেয়েছেন।আর তা হলো, উনার পবিত্র আহলে বাইতকে ভালোবাসতে হবে। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে,

   
সূরা আশ-শূরা, আয়াত: ২৩

ذَٰلِكَ ٱلَّذِى يُبَشِّرُ ٱللَّهُ عِبَادَهُ ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ وَعَمِلُوا۟ ٱلصَّٰلِحَٰتِ قُل لَّآ أَسْـَٔلُكُمْ عَلَيْهِ أَجْرًا إِلَّا ٱلْمَوَدَّةَ فِى ٱلْقُرْبَىٰ وَمَن يَقْتَرِفْ حَسَنَةً نَّزِدْ لَهُۥ فِيهَا حُسْنًا إِنَّ ٱللَّهَ غَفُورٌ شَكُورٌ
অর্থঃ এরই সুসংবাদ দেন আল্লাহ তার সেসব বান্দাকে, যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম করে। বলুন, আমি আমার ধর্মের বিনিময়ে তোমাদের কাছে কেবল আহলে বাইতের প্রতি মোহাব্বত চাই। যে কেউ উত্তম কাজ করে, আমি তার জন্যে তাতে পুণ্য বাড়িয়ে দেই। নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমাকারী, গুণগ্রাহী।

  উপরোক্ত আয়াতে আল্লাহর রাসূল(স) উনার উম্মতের প্রতি একটি বিনিময়ই কেবল চেয়েছেন।আমরা এই বিনিময় কতটুকু দিতে সমর্থ হয়েছি?উপরন্তু প্রিয় নবীজীর আহলে বাইতের পবিত্র রক্ত মোবারকে কারবালার প্রান্তর রঞ্জিত করেছে ইয়াজিদের বাহিনী।সমাজে আজও ইয়াজিদের বাহিনী বিদ্যমান।তারা সহিহ আকিদা,সহিহ হাদিস বলে গলা শুকাতে ভুল করে না।কিন্তু প্রিয় নবীজী(স) এর চাওয়া এই একটা মাত্র বিনিময় দিতে তারা ভুলে যায়। বরং ইয়াজিদের গুণকীর্তন করে তাদের সময় কাটে।ইয়াজিদের গুণগ্রাহী আলেমদের প্রতি সাধারণ মানুষও আজ আকৃষ্ট।তার কারন হলো আমাদের ঈমান ও আমল ঠিক নেই। 

       এবার আসি প্রিয় নবীজী(স) কে ভালোবাসার একটি উদাহরনের দিকে।তার আগে জানতে চাই,পবিত্র কোরআনের কোন আয়াতে অথবা কোন হাদিসে ঈমানদারদের এমন আদেশ দেয়া হয়েছে যেন তারা নিজেদের দাত ফেলে দেয়? তাহলে হযরত উয়ায়েস করনী(রহঃ) কেন রাসূল(স) এর দন্ত মোবারক শহীদ হওয়ার খবর পেয়ে নিজের সমস্ত দাঁত গুলো নিজেই ফেলে দিলেন?আর রাসূল(স) ই কেন হযরত উয়ায়েস করনী(রহঃ) এর জন্য নিজের খেরকা মোবারক পাঠিয়ে দিলেন?মদীনায় বসে কিভাবে রাসূল(স) উনার এমন আশেকের খবর জানলেন?এমন কোন দলিল কি আছে যেখানে বলা আছে রাসূল(স) উনার এই সুমহান আশেকের সংবাদ দুনিয়ার কোন ব্যক্তি মারফত পেয়েছেন? না নেই।বরং তিনিই দুনিয়ার মানুষদের কাছে উনার এই সুমহান আশেকের খবর জানিয়ে গেছেন।  

     এই ঘটনা গুলো আসলে কি প্রমাণ করে?ভালোবাসা অন্তর থেকে সৃষ্টি হয়।আশেকের অন্তরে ভালোবাসার যে আগুন তার জন্য আলাদা কোন দলিল লাগে না।সবাই উয়ায়েস করনী(রহঃ) হতে পারবে না। কিন্তু সবার উচিত ভালোবাসার এই অনুপম দৃষ্টান্ত গুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে রাসূল(স) কে ভালোবাসার চেষ্টা করা।তবে হ্যা,নবী(স) কে ভালোবাসার দলিল আছে, নবী করিম(স) এর আহলে বাইতকে ভালোবাসার দলিল আছে। আর নবী করিম(স) কে কিভাবে ভালোবাসতে হবে তার উদাহরণও আছে। এমনই এক উদাহরণ হলো হযরত ওয়ায়েস কারনী(রহঃ)।আর নবী করিম(স) যে এলেমে গায়েব জানতেন তারই এক উদাহরণ হলো তিনি মদীনায় বসেও উনার আশোক ওয়ায়েস করনী(রহঃ) এর খবর রাখেন।

    নবী করিম(স) এর এই সুমহান আশেক ওয়ায়েস করনী(রহঃ) নবীজীর একটি দন্ত মোবারক শহীদ হওয়ায় নিজের সমস্ত দন্ত মোবারক ফেলে দিলেন।আর নবী করিম(স) এর কলিজার টুকরা ইমাম হোসাইন(আ) যখন কারবালায় স্বপরিবারে শহীদ হলেন তখন আশেকের অন্তরে কি একটুও কষ্ট লাগবে না?নবী পরিবারের ৭২ জন  সদস্যদের পবিত্র রক্ত মোবারকে যখন বন্যা বয়ে গেল তখন আপনি আমি কেমন ভালোবাসার দাবিদার যে তাতে আমাদের  একটুও কষ্ট হয় না?ইমাম হোসাইন(আ) কে ভালোবাসলে এক দল শিয়া বলে চিৎকার করে।আর জান্নাতের এই সর্দারকে ভালো না বাসলে  কি ঈমানদার হওয়া যায়?কারবালার স্মৃতিকে ধামাচাপা দিতে আজ একদল বিক্রি হওয়া আলেম শোক পালনকে হারাম বলে।একটা পশুও তার আপনজনকে হারালে কষ্ট পায়।আর যে মানুষের মনুষ্যত্ব বলতে কিছু থাকবে সে কেন প্রিয় জন হারানোর বেদনায় ব্যথিত হবে না?আর এটা যদি হয় মর্মান্তিক তখন সে বেদনাতো আরো বেড়ে যায়।প্রিয় নবীজীর বংশের প্রায় সবাইকে শহীদ করার চেয়ে এই উম্মতের জন্য আরো বড় কষ্ট কি হতে পারে?পাষন্ড সীমার ছাড়া কার অন্তরে কষ্ট লাগবে না?মহররম শোকের মাস,১০ ই মহররম সৃষ্টি কূলের শোকের দিন।এই সেই দিন যেদিন  মহাবিশ্ব ধংস হয়ে যাবে। অতএব, ভয় করুন আপন প্রভুকে।জেনে রাখবেন, ইসমাইল(আ) কে কোরবানি করতে গিয়েও কোরবানি হয় নি।কারণ জীবন কোরবানি দিয়ে ধর্ম রক্ষা উনারই বংশধর ইমাম হোসাইন(আ) এর জন্য লিখা ছিল।আমরা কেবল ইসমাঈল(আ) এর পরিবর্তে পশু কোরবানিকে স্মরণ করতে জানি।কিন্তু ইসলামের জন্য নিজেদের নবীর পরিবারের এত সংখ্যক সুমহান ব্যক্তির জীবন কোরবানি দেওয়াকে স্মরণ করতে জানি না।আমাদের অনেকেই ৭২ জনকে শহীদ করে মাথা গেড়ে বসা বাতিল ৭২ ফেরকার অনুসারী হতে পছন্দ করে।সেই খুনিদের ঈমান ও আকিদা যাদের অন্তরে গেথে গেছে তারাই কারবালার স্মরণ থেকে বিমুখ হয়।তাদের অন্তরই হয় পাষন্ড সীমারের মতো যারা  কারবালার ঘটনায় শোকাহত হয় না।আফসোস, আমরা আবার নবীজীর উম্মত দাবি করি!!

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

এর নাম কি ইসলাম?

ধইরালা,কাইট্টালা,মাইরালা,জবাই কর,তুই বেদাতি, তুই মাজার পূজারী,তুই শিন্নী খোর-ইসলামে শিন্নী নিষেধ, তুই জিলাপি খোর-জিলাপি খাওয়া বেদাত -এসবের জ...