প্রিয় নবীজী(স) এর রেখে যাওয়া ইসলামের মূলধারা তথা আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের আকিদা ও আমল সম্পর্কে সন্দেহের বেড়াজাল থেকে মুক্তি দেয়াই আমাদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য।
বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০
মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২০
প্রশ্ন-১
প্রশ্নঃ করোনা ভাইরাস কিংবা যেকোন মহামারী পরিস্থিতিতে সরকারের পক্ষ থেকে মসজিদ বন্ধ করে দেয়া কি ইসলাম সম্মত?
উত্তরঃ মুসলমানদের জীবন অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। আল্লাহ পাক কিংবা উনার প্রিয় হাবীব(স) এর শিক্ষা এই নয় যে মুসলমানরা তাদের জীবনকে বিপদের মুখে ফেলে দিবে । বরং নবী করিম(স) এর বর্ণিত হাদিস শরীফের মাধ্যমে আমরা অবগত হই যে, যেকোনো মহামারী পরিস্থিতিতে তিনি মুসলমানদেরকে নিজ নিজ বাড়িতে ইবাদত করার কিংবা নামাজ পড়ার আদেশ দিয়েছেন । আমরা অনেকেই আবেগের বশে মসজিদ বন্ধ থাকাকে মেনে নিতে পারি না। কিন্তু পরিস্থিতি সাপেক্ষ এটাই রাসূল(স) এর আদেশ । তাই করোনায় মতো কঠিন মহামারী পরিস্থিতিতে মসজিদ বন্ধ থাকা ইসলাম বিরোধী নয়।ইসলাম বিরোধী হবে যদি নামাজ পড়ায় নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২০
ইসলামিক কবিতা-২
বাজিছে দামামা বাঁধরে আমামা
কাজী নজরুল ইসলাম
বাজিছে দামামা বাঁধরে আমামা
শির উঁচু করি মুসলমান।
দাওয়াত এসেছে নয়া যমানার
ভাঙ্গা কেল্লায় ওড়ে নিশান।।
মুখেতে কালেমা হাতে তলোয়ার,
বুকে ইসলামী জোশ দুর্বার,
হৃদয়ে লইয়া এশক আল্লাহর
চল আগে চল বাজে বিষান।
ভয় নাই তর গলায় তাবিজ
বাঁধা যে রে তোর পাক কোরান।।
নহি মোরা জীব ভোগ- বিলাসের,
শাহাদাত ছিল কাম্য মোদের,
ভিখারির সাজে খলীফা যাদের
শাসন করিল আধা জাহান-
তারা আজ পড়ে ঘুমায়ে বেহুঁশ
বাহিরে বহিছে ঝড় তুফান।।
ঘুমাইয়া কাজা করেছি ফজর,
তখনো জাগিনি যখন যোহর,
হেলা ও খেলায় কেটেছে আসর
মাগরিবের আজ শুনি আজান।
জামাত শামিল হওরে এশাতে
এখনো জমাতে আছে স্থান।।
শুকনো রুটিকে সম্বল ক’রে
যে ঈমান আর যে প্রানের জোরে
ফিরেছে জগত মন্থন ক’রে
সে শক্তি আজ ফিরিয়ে আন।
আল্লাহ আকবর রবে পুনঃ
কাঁপুক বিশ্ব দূর বিমান।।
ইসলামিক কবিতা-১
উমর ফারুক
– কাজী নজরুল ইসলাম
তিমির রাত্রি –‘এশা’র আজান শুনি দূর মসজিদে
প্রিয়া-হারা কান্নার মতো এ-বুকে আসিয়া বিঁধে!
আমির-উল-মুমেনিন,
তোমার স্মৃতি যে আজানের ধ্বনি – জানে না মুয়াজ্জিন!
তকবির শুনি শয্যা ছাড়িয়া চকিতে উঠিয়া বসি,
বাতায়নে চাই – উঠিয়াছে কি রে গগনে মরুর শশী?
ও-আজানা ও কি পাপিয়ার ডাক, ও কি চকোরীর গান?
মুয়াজ্জিনের কণ্ঠে ও কি ও তোমারই সে আহ্বান?
আবার লুটায়ে পড়ি!
‘সেদিন গিয়াছে’–শিয়রের কাছে কহিছে কালের ঘড়ি!
উমর! ফারুক! আখেরি নবির ওগো দক্ষিণ-বাহু!
আহ্বান নয় – রূপ ধরে এসো! – গ্রাসে অন্ধতা-রাহু
ইসলাম-রবি, জ্যোতি আজ তার দিনে দিনে বিমলিন!
সত্যের আলো নিভিয়া – জ্বলিছে জোনাকির আলো ক্ষীণ!
শুধু অঙ্গুলি-হেলনে শাসন করিতে এ জগতের
দিয়াছিলে ফেলি মুহম্মদের চরণে যে-শমশের,
ফিরদৌস ছাড়ি নেমে এসো তুমি সেই শমশের ধরি,
আর একবার লোহিত-সাগরে লালে লাল হয়ে মরি!
নওশার বেশে সাজাও বন্ধু মোদের পুনর্বার
খুনের সেহেরা পরাইয়া দাও হাতে বাঁধি হাতিয়ার!
দেখাইয়াদাও – মৃত্যু যথায় রাঙা দুলহিন৬ -সাজে
করে প্রতীক্ষা আমাদের তরে রাঙা রণ-ভূমি মাঝে!
মোদের ললাট-রক্তে রাঙিবে রিক্ত সিঁথি তাহার,
দুলাব তাহার গলায় মোদের লোহু-রাঙা তরবার!
সেনানী! চাই হুকুম!
সাত সমুদ্র তেরো নদী পারে মৃত্যু-বধূর ঘুম
টুটিয়াছে ওই যক্ষ-কারায় সহে নাকো আর দেরি,
নকিব কণ্ঠে শুনবি কখন নব অভিযান ভেরি!…
নাই তুমি নাই, তাই সয়ে যায় জমানার অভিশাপ,
তোমার তখ্তে বসিয়া করিছে শয়তান ইনসাফ !
মোরা ‘আসহাব-কাহাফের’ মতো দিবানিশি দিই ঘুম,
‘এশা’র আজান কেঁদে যায় শুধু – নিঃঝুম নিঃঝুম!
কত কথা মনে জাগে,
চড়ি কল্পনা-বোররাকে যাই তেরশো বছর আগে
যেদিন তোমার প্রথম উদয় রাঙা মরু-ভাস্কর,
আরব যেদিন হল আরাস্তা, মরীচিকা সুন্দর।
গোষ্ঠে বসিয়া বালক রাখাল মহম্মদ সেদিন
বারে বারে কেন হয়েছে উতলা! কোথা বেহেশ্তি বীণ
বাজিতেছে যেন! কে যেন আসিয়া দাঁড়িয়েছে তাঁর পিছে,
বন্ধু বলিয়া গলা জড়াইয়া কে যেন সম্ভাষিছে!
মানসে ভাসিছে ছবি –
হয়তো সেদিন বাজাইয়া বেণু মোদের বালক নবি
অকারণ সুখে নাচিয়া ফিরেছে মেষ-চরণের মাঠে!
খেলায়েছে খেলা বাজাইয়া বাঁশি মক্কার মরু বাটে!
খাইয়াছে চুমু দুম্বা শিশুরে জড়াইয়া ধরি বুকে,
উড়ায়ে দিয়েছে কবুতরগুলি আকাশে অজানা সুখে!
সূর্য যেন গো দেখিয়াছে – তার পিছনে অমারাতি
রৌশন-রাঙা করিছে কে যেন জ্বালায়ে চাঁদের বাতি।
উঠেছিল রবি আমাদের নবি, সে মহা-সৌরলোকে,
উমর, একাকী তুমি পেয়েছিলে সে আলো তোমার চোখে!
কে বুঝিবে লীলা-রসিকের খেলা! বুঝি ইঙ্গিতে তার
বেহেশ্ত-সাথি খেলিতে আসিলে ধারার পুনর্বার।
তোমার রাখাল-দোস্তের মেষ চরিত সুদূর গোঠে,
হেথা ‘আজনান’ -ময়দানে তব পরাণ ব্যথিয়া ওঠে!
কেন কার তরে এ প্রাণ-পোড়ানি নিজেই জান না বুঝি,
তোমার মাঠের উটেরা হারায়, তুমি তা দেখ না খুঁজি!
ইহারাই মাঝে বা হয়তো কখন দুঁহুঁ দোঁহা দেখেছিলে,
খেজুর-মেতির গল-হার যেন বদল করিয়া নিল,
হইলে বন্ধু মেষ-চারণের ময়দানে নিরালয়,
চকিত দেখায় চিনিল হৃদয় চির-চেনা আপনায়!
খেলার প্রভাত কাটিল কখন, ক্রমে বেলা বেড়ে চলে,
প্রভাতের মালা শুকায়ে ঝরিল খর মরু বালুতলে।
দীপ্ত জীবন মধ্যাহ্নের রৌদ্র তপ্ত পথে
প্রভাতের সখা শত্রুর বেশে আসিল রক্ত-রথে।
আরবে সেদিন ডাকিয়াছে বান, সেদিন ভূবন জুড়ি,
‘হেরা’-গুহা হতে ঠিকরিয়া ছুটি মহাজ্যোতি বিচ্ছুরি!
প্রতীক্ষমাণ তাপসী ধরণি সেদিন শুদ্ধস্নাতা
উদাত্ত স্বরে গাহিতেছিল গো কোরাণের সাম-গাথা!
পাষাণের তলে ছিল এত জল, মরুভূমে এত ঢল?
সপ্ত সাগর সাতশত হয়ে যেন করে টলমল!
খোদার হাবিব এসেছে আজিকে হইয়া মানব-মিতা,
পুণ্য-প্রভায় ঝলমল করে ধরা পাপ-শঙ্কিতা ।
সেদিন পাথারে উঠিল যে মৌজ তাহারে শাসন-হেতু
নির্ভীক যুবা দাঁড়াইলে আসি ধরি বিদ্রোহ-কেতু!
উদ্ধত রোষে তরবারি তব ঊর্দ্ধে আন্দোলিয়া
বলিলে, “রাঙাবে এ তেগ মুসলমানের রক্ত দিয়া !”
উন্মাদ বেগে চলিলে ছুটিয়া! – একী এ কী ওঠে গান?
এ কোন লোকের অমৃত মন্ত্র? কার মহা আহ্বান?
ফতেমা – তোমার সহোদরা – গাহে কোরান-অমিয়-গাথা,
এ কোন মন্ত্রে চোখে আসে জল, হায় তুমি জান না তা!
উন্মাদ-সম কেঁদে কও, “ওরে, শোনা পুন সেই বাণী!
কে শিখাল তোরে এ গান সে কোন বেহেশ্তে আনি
এ কী হল মোর? অভিনব এই গীতি শুনি হায় কেন
সকল অঙ্গ শিথিল হইয়া আসিছে আবেশে যেন!
কী যেন পুলক কী যেন আবেগ কেঁপে উঠি বারে বারে,
মানুষের দুঃখে এমন করিয়া কে কাঁদিছে কোন পারে?”
“আশহাদু আন-লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু” বলি
কহিল ফাতেমা–“এই যে কোরান, খোদার কালাম গলি
নেমেছে ভুবনে মহম্মদের অমর কণ্ঠে, ভাই!
এই ইসলাম, আমরা ইহারই বন্যায় ভেসে যাই!”…
উমর আনিল ইমান। – গরজি গরজি উঠিল স্বর
গগন পবন মন্থর করি –“আল্লাহু আকবর!”
সম্ভ্রমে-নত বিশ্ব সেদিন গাহিল তোমার স্তব –
“এসেছেন নবি, এত দিনে এল ধরায় মহামানব!”
পয়গম্বর রবি ও রুসল – এঁরা তো খোদার দান!
তুমি রাখিয়াছ, হে অতি-মানুষ, মানুষের সম্মান!
কোরান এনেছে সত্যের বাণী, সত্যে দিয়াছে প্রাণ,
তুমি রূপ – তব মাঝে সে সত্য হয়েছে অধিষ্ঠান।
ইসলাম দিল কি দান বেদনা-পীড়িত এ ধরণিরে,
কোন নব বাণী শুনাইতে খোদা পাঠাল শেষ নবিরে, –
তোমারে হেরিয়া পেয়েছি জওয়াব সেসব জিজ্ঞাসার!
কী যে ইসলাম, হয়তো বুঝিনি, এইটুকু বুঝি তার
উমর সৃজিতে পারে যে ধর্ম, আছে তার প্রয়োজন!
ওগো, মানুষের কল্যাণ লাগি তারই শুভ আগমন
প্রতীক্ষায় এ দুঃখিনী ধরা জাগিয়াছে নিশিদিন
জরা-জর্জর সন্তানে ধরি বক্ষে শান্তিহীন!
তপস্বিনীর মতো
তাহারই আশায় সেধেছে ধরণি অশেষ দুখের ব্রত।
ইসলাম – সে তো পরশ-মাণিক তারে কে পেয়েছে খুঁজি!
পরশে তাহার সোনা হল যারা তাদেরেই মোরা বুঝি।
আজ বুঝি – কেন কেন বলিয়াছিলেন শেষ পয়গম্বর –
“মোর পরে যদি নবি হত কেউ, হত সে এক উমর!”
পাওনিকো ‘ওই’, হওনিকো নবি, তাইতো পরান ভরি
বন্ধু ডাকিয়া আপনার বলি বক্ষে জড়ায়ে ধরি!
খোদারে আমরা করি গো সেজদা, রসুলে করি সালাম,
ওঁরা ঊর্ধ্বের, পবিত্র হয়ে নিই তাঁহাদের নাম,
তোমারে স্মরিতে ঠেকাই না কর ললাটে ও চোখে-মুখে
প্রিয় হয়ে আছ তুমি হতমান মানুষ জাতির বুকে।
করেছ শাসন অপরাধীদের তুমি করনিকো ক্ষমা,
করেছ বিনাশ অসুন্দরের। বলনিকো মনোরমা।
মিথ্যাময়ীরে। বাঁধনিকো বাসা মাটির ঊর্ধ্বে উঠি।
তুমি খাইয়াছ দুঃখীর সাথে ভিক্ষার খুদ খুঁটি!
অর্ধ পৃথিবী করেছ শাসন ধুলার তখতে বসি
খেঁজুর পাতার প্রাসাদ তোমার বারে বারে গেছে খসি
সাইমুম-ঝড়ে। পড়েছে কুঠির, তুমি পড়নিকো নুয়ে,
ঊর্ধ্বের যারা – পড়েছে তাহারা, তুমি ছিলে খাড়া ভুঁয়ে!
শত প্রলোভন বিলাস বাসন ঐশ্বর্যের মদ
করেছে সালাম দূর হতে সব, ছুঁইতে পারেনি পদ।
সবারে ঊর্ধ্বে তুলিয়া ধরিয়া তুমিছিলে সব নিচে,
বুকে করে সবে বেড়া করি পার, আপনি রহিলে পিছে!
হেরি পশ্চাতে চাহি –
তুমি চলিয়াছ রৌদ্রদগ্ধ দূর মরুপথ বাহি
জেরুজালেমের কিল্লা যথায় আছে অবরোধ করি
বীর মুসলিম সেনা দল তব বহু দিন মাস ধরি।
দুর্গের দ্বার খুলিবে তাহারা, বলেছে শত্রু শেষে –
উমর যদি গো সন্ধিপত্রে স্বাক্ষর করে এসে।
হায় রে আধেক ধরার মালিক আমিরুল-মুমেনিন
শুনে সে খবর একাকী উষ্ট্রে চলেছে বিরামহীন
সাহারা পারায়ে! ঝুলিতে দুখানা শুকনো ‘খবুজ’ রুটি,
একটি মশকে একটুকু পানি খোর্মা দু-তিন মুঠি!
প্রহরীবিহীন সম্রাট চলে একা পথে উটে চড়ি
চলিছে একটি মাত্র ভৃত্য উষ্টের রশি ধরি!
মরুর সূর্য ঊর্ধ্ব আকাশে আগুন বৃষ্টি করে,
সে আগুন-তাতে খই সম ফোটে বালুকা মরুর পরে।
কিছুদূর যেতে উট হতে নামি কহিলে ভৃত্যে, “ভাই
পেরেশান বড়ো হয়েছে চলিয়া! এইবার আমি যাই
উষ্ট্রের রশি ধরিয়া অগ্রে, তুমি উঠে বসো উটে ;
তপ্ত বালুতে চলি যে চরণে রক্ত উঠেছে ফুটে!”
…ভৃত্য দস্ত চুমি
কাঁদিয়া কহিল “উমর! কেমনে এ আদেশ করো তুমি?
উষ্ট্রের পিঠে আরাম করিয়া গোলাম রহিবে বসি
আর হেঁটে যাবে খলিফা উমর ধরি সে উটের রশি”
খলিফা হাসিয়া বলে,
“তুমি জিতে গিয়ে বড়ো হতে চাও, ভাই রে এমনই ছলে!
রোজ-কিয়ামতে আল্লা যেদিন কহিবে “উমর! ওরে,
করেনি খলিফা মুসলিম-জাঁহা তোর সুখ তরে তোরে!”
কী দিব জওয়াব, কি করিয়া মুখ দেখাব রসুলে ভাই?
আমি তোমাদের প্রতিনিধি শুধু! মোর অধিকার নাই
আরাম সুখের, – মানুষ হইয়া নিতে মানুষের সেবা!
ইসলাম বলে সকলে সমান, কে বড়ো ক্ষুদ্র কেবা!
ভৃত্য চড়িল উটের পিঠে উমর ধরিল রশি,
মানুষে স্বর্গে তুলিয়া ধরিয়া ধুলায় নামিল শশী
জানি না, সেদিন আকাশে পুষ্পবৃষ্টি হইল কিনা,
কী গান গাহিল মানুষে সেদিন বন্দি বিশ্ববাণী!
জানি না, সেদিন ফেরেশতা তব করেছে কি না স্তব, –
অনাগত কাল গিয়েছিল শুধু, “জয় জয় হে মানব!”…
আসিলে প্যালেস্টাইন, পারায়ে দুস্তর মরুভূমি,
ভৃত্য তখন উটের উপরে, রশি ধরে চল তুমি!
জর্ডন নদী হও যবে পার, শত্রুরা কহে হাঁকি –
“যার নামে কাঁপে অর্ধ পৃথিবী, এই সেই উমর নাকি?”
খুলিল রুদ্ধ দূর্গা-দুয়ার! শত্রুরা সম্ভ্রমে
কহিল –“খলিফা আসেনি, এসেছে মানুষ জেরুজালমে!”
সন্ধিপত্র স্বাক্ষর করি শত্রু-গির্জা-ঘরে
বলিলে, “বাহিরে যাইতে হইবে এইবার নামাজ তরে!”
কহে পুরোহিত, “আমাদের এই আঙিনায় গির্জায়,
পড়িলে নামাজ হবে না কবুল আল্লার দরগায় ?”
হাসিয়া বলিলেন, “তার তরে নয়, আমি যদি হেথা আজ
নামাজ আদায় করি, তবে কাল অন্ধ লোক-সমাজ
ভাবিবে – খলিফা করেছে ইশারা হেথায় নামাজ পড়ি
আজ হতে যেন এই গির্জারে মোরা মসজিদ করি!
ইসলামের এ নহেকো ধর্ম, নহে খোদার বিধান,
কারও মন্দির গির্জারে করে মজিদ মুসলমান!”
কেঁদে কহে যত ইসাই ইহুদি অশ্রু সিক্ত আঁখি –
“এই যদি হয় ইসলাম – তবে কেহ রহিবেনা বাকি,
সকলে আসিবে ফিরে
গণতন্ত্রের ন্যায় সাম্যের শুভ্র এ মন্দিরে!”
তুমি নির্ভীক এ খোদা ছাড়া করনিকো কারে ভয়
সত্যব্রত তোমায় তাইতে সবে উদ্ধত কয়।
মানুষ হইয়া মানুষের পূজা মানুষরই অপমান
তাই মহাবীর খালেদেরে তুমি পাঠাইলে ফরমান
সিপাহ-সালারে ইঙ্গিতে তব করিলে মামুলি সেনা,
বিশ্ব-বিজয়ী বীরেরে শাসিতে এতটুকু টলিলে না।
ধরাধাম ছাড়ি শেষ নবী যবে করিল মহাপ্রয়াণ,
কে হবে খালিফা – হয়নি তখনও কলহের অবসান,
নব-নন্দনী বিবি ফাতেমার মহলে আসিয়া সবে
করিতে লাগিল জটলা – ইহার পরে কে খালিফা হবে!
বজ্রকণ্ঠে তুমিই সেদিন বলিতে বলিতে পারিয়াছিলে –
“নবিসূতা! তবে মহল জ্বালাব, এ সভা ভেঙে না দিলে!”
মানব-প্রেমিক! আজিকে তোমারে স্মরি,
মনে পড়ে যত মহত্ত্ব-কথা – সেদিন সে বিভাবরী
নগর-ভ্রমণে বাহিরিয়া তুমি দেখিতে পাইলে দূরে
মায়েরে ঘিরিয়া ক্ষুধাতুর দুটি শিশু সকরুণ সুরে
কাঁদিতেছে আর দুঃখিণী মাতা ছেলেরে ভুলাতে, হায়,
উনানে শূণ্য হাঁড়ি চড়াইয়া কাঁদিয়া অকূলে চায়!
শুনিয়া সকল – কাঁদিতে কাঁদিতে ছুটে গেলে মদিনাতে
বয়তুল-মাল হইতে লইয়া ঘৃত আটা নিজ হাতে,
বলিলে, “এসব চাপাইয়া দাও আর পিঠের পরে,
আমি লয়ে যাব বহিয়া এ-সব দুখিনী মায়ের ঘরে।”
কত লোক আসি আপনি চাহিল বহিতে তোমার বোঝা,
বলিলে, “বন্ধু, আমার এ ভার আমিই বহিব সোজা!
রোজ-কিয়ামতে কে বহিবে বলো আমার পাপের ভার?
মম অপরাধে ক্ষুধায় শিশুরা কাঁদিয়াছে, আজই তার
প্রায়শ্চিত্ত করিব আপনি!” – চলিলে নিশীথ রাতে
পৃষ্ঠে বহিয়া খাদ্যের বোঝা দুখিনীর আঙিনাতে –
এত যে কোমল প্রাণ,
করুণার বশে তবু গো ন্যায়ের করনিকো অপমান!
মদ্যপানের অপরাধে প্রিয় পুত্রেরে নিজ করে
মেরেছ দোররা, মরেছে পুত্র তোমার চোখের পরে।
ক্ষমা চাহিয়াছে পুত্র, বলেছ পাষাণে বক্ষ বাঁধি –
“অপরাধ করে তোরই মত স্বরে কাঁদিয়াছে অপরাধী!”
আবু শাহমার গোরে
কাঁদিতে যাইয়া ফিরিয়া আসি গো তোমারে সালাম করে।
খাস দরবার ভরিয়া গিয়াছে হাজার দেশের লোকে,
‘কোথায় খলিফা’ কেবলই প্রশ্ন ভাসে উৎসুক চোখে,
একটি মাত্র পিরান কাচিয়া শুকায়নি তাহা বলে
রৌদ্রে ধরিয়া বসিয়া আছে গো খলিফা আঙিনা-তলে!
… হে খলিফাতুল-মুসলেমিন! হে চীরধারী সম্রাট!
অপমান তব করিব না আজ করিয়া নান্দী পাঠ,
মানুষেরে তুমি বলেছ বন্ধু, বলিয়াছ ভাই, তাই
তোমারে এমন চোখের পানিতে স্মরি গো সর্বদাই!
বন্ধু গো, প্রিয়, এ হাত তোমারে সালাম করিতে গিয়া
ওঠে না ঊর্ধ্বে, বক্ষে তোমারে ধরে শুধু জড়াইয়া!…
মাহিনা মোহররম –
হাসেন হোসেন হয়েছে শহিদ, জানে শুধু হায় কৌম,
শহিদি বাদশা! মোহর্রমে যে তুমিও গিয়াছ চলি
খুনের দরিয়া সাঁতারি – এজাতি গিয়াছে গো তাহা ভুলি!
মোরা ভুলিয়াছি, তুমি তো ভোলনি! আজও আজানের মাঝে
মুয়াজ্জিনের কণ্ঠে বন্ধু, তোমারই কাঁদন বাজে
বন্ধু গো জানি, আমাদের প্রেমের আজও ও গোরের বুকে
তেমনি করিয়া কাঁদিছ হয়তো কত না গভীর দুখে!
ফিরদৌস হতে ডাকিছে বৃথাই নবি পয়গম্বর,
মাটির দুলাল মানুষের সাথে ঘুমাও মাটির পর!
হে শহিদ! বীর! এই দোয়া কর আরশের পায়া ধরি –
তোমারই মতন মরি যান হেসে খুনের সেহেরা পরি।
মৃত্যুর হতে মরিতে চাহি না, মানুষের প্রিয় করে
আঘাত খাইয়া যেন গো আমার শেষ নিঃশ্বাস পড়ে!
শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২০
মহররমে কেন শোক পালন করবেন?
সূরা আশ-শূরা, আয়াত: ২৩
ذَٰلِكَ ٱلَّذِى يُبَشِّرُ ٱللَّهُ عِبَادَهُ ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ وَعَمِلُوا۟ ٱلصَّٰلِحَٰتِ قُل لَّآ أَسْـَٔلُكُمْ عَلَيْهِ أَجْرًا إِلَّا ٱلْمَوَدَّةَ فِى ٱلْقُرْبَىٰ وَمَن يَقْتَرِفْ حَسَنَةً نَّزِدْ لَهُۥ فِيهَا حُسْنًا إِنَّ ٱللَّهَ غَفُورٌ شَكُورٌ
অর্থঃ এরই সুসংবাদ দেন আল্লাহ তার সেসব বান্দাকে, যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম করে। বলুন, আমি আমার ধর্মের বিনিময়ে তোমাদের কাছে কেবল আহলে বাইতের প্রতি মোহাব্বত চাই। যে কেউ উত্তম কাজ করে, আমি তার জন্যে তাতে পুণ্য বাড়িয়ে দেই। নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমাকারী, গুণগ্রাহী।
বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২০
শ্রেষ্ঠত্বের দাবীদার একমাত্র নবী-বংশই
শ্রেষ্ঠত্বের দাবীদার একমাত্র নবী-বংশই | নবী-বংশের মর্যাদা
----------------------------------------
এ কথা দিবালােকের চেয়েও সত্য যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পবিত্র বংশ হচ্ছে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ বংশ। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বংশ ব্যতিত পৃথিবীর আর কোন বংশ পরস্পরের মধ্যে শ্রেষ্ঠত্বের দাবি করতে পারেনা। সমগ্র মানবজাতির মধ্যে নবীরাই শ্রেষ্ঠ।
যেমন,ইমাম ফখরুদ্দীন রাজী বলেন,
افضل النوع الانسان-كما قال الفخر الرازی
অর্থাৎ, হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলাইহি ওয়াসাল্লাম'র বংশ হচ্ছে, মানব জাতির শ্রেষ্ঠতম বংশ।” আবার নবীদের মধ্যে আমাদের আক্বাও মাওলা সায়্যিদুনা মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লামই শ্রেষ্ঠ।
আয়াত ১ঃ
-------------
আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন,
تلك الرسل فضلنا بعضهم على بعض من كم من گلم الله ورفع بعضهم درجات
অর্থাৎ, “এই সম্মানিত রাসূলগণ। তাঁদের কারাে একজনের ওপর অপরকে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছি। তাঁদের মধ্যে কারাে কারাে সাথে আল্লাহ কথা বলেছেন, আবার কাওকে উচ্চ মর্যাদায় উন্নীত করেছেন।”
[সূরা বাক্বারা; আয়াত: ২৫৩]
এ আয়াত দ্বারা বুঝা যায় যে, রাসূলগণ প্রত্যেকে শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারী। তবে তাঁদের মধ্যে, মর্যাদার স্তরবিন্যাস রয়েছে। আর এটাও বুঝা গেল যে, নবী-রাসূলদের মধ্যকার মর্যাদার স্তরবিন্যাসে সর্বোচ্চ স্তরে আমাদের প্রিয় নবী, খাতামুন্নবিয়্যীন, হুজুর পাক সাল্লাহু তা'আলা আলাইহি ওয়াসাল্লাম রয়েছেন। আর হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে অন্য নবী রাসূলদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ তাঁর প্রমাণ হচ্ছে, তিনি পবিত্র মেরাজের রজনীতে সমস্ত নবী-রাসূল আলাইহিমুস সালামের নামাযে ইমামতি করেছেন, যা সহীহ বুখারী শরীফের হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত। কেননা, শ্রেষ্ঠজনই ইমামতি করে।
হাদিস ১ঃ
------------
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন,
حدثنا إسحاق بن نصر : حدثنا حسين ، عن زائدة، عن عبد الملك ابن عمير، قال : حدثني أبو بردة، عن أبي موسى، قال: مرض النبى صلى الله عليه وسلم ، فاشتد مرضه، فقال: مروا أبا بكر فليصل بالناس قالت عائشة: إنه رجل رقيق، إذا قام مقامک لم يستطع أن يصلى بالناس، قال: مروا أبا بگر فلیصل بالناس فعادت,فقال: مری أبا بكر فليصل بالناس، فإنکن صواحبیوسف فأتهالرسول, فصمی بالناس في حياة النبي صلى الله عليه وسلم -
এই হাদীছের ব্যাখায় বুখারী শরীফের ব্যাখ্যাকার আল্লামা ইবনু রজব হাম্বলী বলেন,
استدل البخارى بهذا الحديث على أن أهل الفضل والعلم أحق بالإمامة من غيرهم؛ فإن النبي (أمر أبا بكر من بين الصحابة كلهم بالصلاة بالناس، وروجع في ذلك مرارأ وهويابي إلا تقديمه في الصلاة على غيره من الصحابة، وإنما قدمه لعلمه وفضله؛ فأما فضله على سائر الصحابة فهو ما اجتمع عليه أهل السنة والجماعة، و أما علمه فكذلك.
অর্থাৎ, “এই হাদীছ দ্বারা ইমাম বুখারী রাহমাতুল্লাহি তা'আলা আলাইহি দলীল পেশ করেছেন যে, শ্রেষ্ঠজন এবং জ্ঞানীগণই অন্যদের চেয়ে ইমামতির জন্য অধিক উপযুক্ত। কেননা, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবাদের অনেকে উপস্থিত থাকলেও হযরত আবু বকর রাদ্বিআল্লাহু তা'আলা আনহুকেই মানুষের নামাযে ইমামতি করার আদেশ করেছেন। অথচ (হযরত আবু বকর রাদ্বিআল্লাহু তা'আলা আনহুর হৃদয়ের কোমলতার কারণে) বার বার তাঁকে ইমামতির আসনে না দেয়ার অনুরােধ সত্বেও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লহু তা'আলা আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে ছাড়া অন্য কোন সাহাবাকে ইমামতিতে অগ্রগামী করতে অস্বীকার করেন। আর তিনি সাল্লাল্লহু তা'আলা আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে (হযরত আবু বকর রাদ্বিআল্লাহ তা'আলা আনহুকে) প্রাধান্য দেয়ার কারণ হচ্ছে, তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব ও জ্ঞান। আর সমস্ত সাহাবার ওপর হযরত আবু বকর রাদ্বিআল্লাহু তা'আলা আনহুর শ্রেষ্ঠত্ব এবং অধিক জ্ঞানের ব্যাপারে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা'আতের ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত।
[ফতহুল বারী ফী শরহিল বুখারী; কৃত-ইবনু রজব আল হাম্বলী রাহমাতুল্লাহি আলাইহি]
একই হাদীছের ব্যাখায় বুখারী শরীফের ব্যাখ্যাকার আল্লামা ইবনু রজব হাম্বলী আরাে বলেন,
وقليل اللیث: یٶمهم أفضلهم وخیر هم,ثم أقر ٶهم,ثم أسنهم
অর্থাৎ,“আর ইমাম লাইছ বলেন, লােকদের ইমামতি করবে (প্রথমত) তাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারী এবং উত্তম ব্যক্তি, অতঃপর তাদের মধ্যে অধিক বিশুদ্ধভাবে কুরআন তিলাওয়াতকারী, অতঃপর তাদের মধ্যে অধিক বয়স্কজন।”
[ফতহুল বারী ফী শরহিল বুখারী; কৃত-ইবনু রজব আল হাম্বলী রাহমাতুল্লাহি আলাইহি]
হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে অনন্য সৃষ্টি, সমস্ত মানবজাতি এমনকি নবী-রাসূলদের চেয়েও শ্রেষ্ঠ।
হাদিস ২ঃ
------------
রাসুলুল্লাহ (দ.) ইরশাদ করেন,
عن أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال النبي صلى الله عليه وسلم: "أنا سيد ولد آدم ولا فخر، وأول من ينشق عنه القبر، وأول شافع، وأول مشفع" رواه مسلم.
অর্থাৎ, “আমি আদমসন্তানদের সায়্যিদ তথা শ্রেষ্ঠত্ব ও নেতৃত্বের আসনে অধিষ্ঠিত, আর এতে আমার কোন অহংকার নাই। আর কিয়ামতের দিন সর্ব প্রথম আমার কবরই খোলা হবে। আমিই প্রথম শাফা'আতকারী (সুপারিশকারী), আমার সুপারিশই প্রথম কবুল (গ্রহণ) করা হবে।”
[সহীহ মুসলিম শরীফ]
সহীহ মুসলিম শরীফের ব্যাখ্যাকার আল্লামা ইমাম নববী রাহমাতুল্লাহি তা'আলা আলাইহি বলেন,
وهذا الحديث دليل لتفضيله صلى الله عليه وسلم على الخلق كلهم، لأن مذهب أهل السنة أن الآدميين أفضل من الملائكة وهو صلى الله عليه وسلم أفضل الادیین وغیر هم"
অর্থাৎ, “এই হাদীছ সমগ্র সৃষ্টির ওপর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম'র শ্রেষ্ঠত্বের দলীল। কেননা, আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা'আতের মতে, সমস্ত আদম সন্তান ফেরেস্তা থেকে উত্তম আর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সমস্ত আদম সন্তান ও অন্যান্য সৃষ্টির চেয়েও শ্রেষ্ঠ।”
[শরহু সহীহিল মুসলিম; কৃত, আল্লামা ইমাম নববী রাহমাতুল্লাহি তা'আলা আলাইহি]
_________________
বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২০
পবিত্র কোরআনের আলোকে নবীজীর আহলে বাইতের পবিত্রতা
▓▓▓▓▓▓▓▓▓▓▓▓▓▓▓▓▓▓▓▓▓▓▓▓▓▓▓▓▓
ஜ۩۞۩ஜ পবিত্র কোরআনের আলোকে নবীজীর আহলে বাইতের পবিত্রতা ஜ۩۞۩ஜ
▒▒▒▒▒▒▒▒▒▒▒▒▒▒▒▒▒▒▒▒▒▒▒▒▒▒▒▒▒
❏ কুরআনের দলীল ১ | নবী-বংশের পবিত্রতা
----------------------------------------
ﺃَﻟْﺤَﻘْﻨَﺎ ﺑِﻬِﻢْ ﺫُﺭِّﻳَّﺘَﻬُﻢْ ﻭَﻣَﺎ ﺃَﻟَﺘْﻨَﺎﻫُﻢْ ﻣِﻦْ ﻋَﻤَﻠِﻬِﻢْ ﻣِﻦْ ﺷَﻲْﺀٍ
আল্লাহ্ পাক বলেন, আমি জান্নাতের মধ্যে মু'মিনদেরকে তাদের সন্তানদের সাথে মিলিয়ে দেব এবং তাদের নেক আমলে কোন ঘাটতি করা হবে না। [সূরা তূর-২১]
নবী বংশের পবিত্রতা এ আয়াতের মাধ্যমে বুঝা গেল যে, কিয়ামত দিবসে নবী করীম (ﷺ)-এর মু'মিন আওলাদগণ নবী আকরামের সাথেই থাকবেন। এর দ্বারা আওলাদে রাসূলের শ্রেষ্ঠত্বও প্রমাণিত হল। এবং নেককারদের আমল যে কাজে আসবে তাও জানা গেল।
❏কুরআনের দলীল ২ | নবী-বংশের পবিত্রতা
----------------------------------------
ﻗُﻞْ ﻟَﺎ ﺃَﺳْﺄَﻟُﻜُﻢْ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﺃَﺟْﺮًﺍ ﺇِﻟَّﺎ ﺍﻟْﻤَﻮَﺩَّﺓَ ﻓِﻲ ﺍﻟْﻘُﺮْﺑَﻰٰ
"হে মাহবুব! আপনি বলে দিন, আমি এ (পথ প্রদর্শন ও ধর্ম প্রচার)'র বিনিময়ে তােমাদের নিকট হতে আমার আহলে বাইত এর ভালােবাসা ব্যতীত অন্য কোন প্রতিদান চাই না।
[সূরা শুরা-২৩] "
এ আয়াতের এক তাফসীরে এমনও আছে যে, নবী আকরাম ইরশাদ করেন, “হে উম্মতগণ! আমার হকের কারণে আমার আওলাদকে ভালবাস।' তাহলে বুঝা গেল যে, নবী আকরামের কারণেই আহলে বাইতে রাসূলকে ভালবাসা অপরিহার্য, যা অন্য কোন বংশের মধ্যে নেই।
❏কুরআনের দলীল ৩ | নবী-বংশের পবিত্রতা
----------------------------------------
ﻭَﺍﻋْﻠَﻤُﻮﺍ ﺃَﻧَّﻤَﺎ ﻏَﻨِﻤْﺘُﻢْ ﻣِﻦْ ﺷَﻲْﺀٍ ﻓَﺄَﻥَّ ﻟِﻠَّﻪِ ﺧُﻤُﺴَﻪُ ﻭَﻟِﻠﺮَّﺳُﻮﻝِ ﻭَﻟِﺬِﻱ ﺍﻟْﻘُﺮْﺑَﻰٰ ﻭَﺍﻟْﻴَﺘَﺎﻣَﻰٰ ﻭَﺍﻟْﻤَﺴَﺎﻛِﻴﻦِ ﻭَﺍﺑْﻦِ ﺍﻟﺴَّﺒِﻴﻞِ
"জেনে রাখ, গণিমতের সম্পদ হিসেবে তোমরা যা কিছু পাবে তার পাঁচটি অংশ আল্লাহ্, রাসূল, আহলে বাইতে রাসূল, এতিম এবং মিসকিনদের জন্য।"
[সূরা আনফাল-৪১]
তাহলে প্রতীয়মান হলাে যে, নবী-ই আকরামের জামানায় গণিমতের মালের মধ্যে আওলাদে রাসূলের জন্য সম্পূর্ণ আলাদা একটা অংশ ছিল।
ইমাম শাফেয়ী রাহমাতুল্লাহি আলায়হি-এর মতে, "শুধু সে সময় নয় বরং অদ্যবধি আওলাদে রাসূলগণ তাঁদের অংশ পাবেন, সে সম্মান অন্য কোন বংশের প্রাপ্তি হয় নি।"
❏কুরআনের দলীল ৪ | নবী-বংশের পবিত্রতা
----------------------------------------
ﻭَﺃَﻣَّﺎ ﺍﻟْﺠِﺪَﺍﺭُ ﻓَﻜَﺎﻥَ ﻟِﻐُﻠَﺎﻣَﻴْﻦِ ﻳَﺘِﻴﻤَﻴْﻦِ ﻓِﻲ ﺍﻟْﻤَﺪِﻳﻨَﺔِ ﻭَﻛَﺎﻥَ ﺗَﺤْﺘَﻪُ ﻛَﻨْﺰﻟَﻬُﻤَﺎ
অনুবাদ: হযরত খিজির আলায়হিস্ সালাম হযরত মূসা আলায়হিস্ সালামকে বললেন, এই দেয়ালের নিচে দুটো ছেলের গুপ্ত ধনভান্ডার রয়েছে। তাঁদের উভয়ের পিতা সৎ কর্মপরায়ণ ছিলেন, সে জন্য আপনার রবের ইচ্ছা যে, উভয় ছেলে বালেগ তথা প্রাপ্ত বয়স্ক হবে এবং তারা তাদের সম্পদ বের করবে।
[সূরা কাহফ-৮২]
এ আয়াতের মাধ্যমে জানা গেল যে, এ দুই এতিম শিশুর প্রতি আল্লাহ তাআলা এ কারণে দয়া পরবশ হয়েছেন যে, তাদের পিতা মুত্তাকী-পরহেযগার ছিলেন। প্রমাণিত হলাে যে, নেককার ব্যক্তির নেক আমলের কারণে সন্তানরা উপকৃত হয়। সে কারণে নবী-ই আকরামের নেক আমলের কারণে আওলাদে রাসূলগণ অবশ্যই উপকৃত হবেন।
❏কুরআনের দলীল ৫ | নবী-বংশের পবিত্রতা
----------------------------------------
ﻭَﺟَﻌَﻠْﻨَﺎ ﻓِﻲ ﺫُﺭِّﻳَّﺘِﻬِﻤَﺎ ﺍﻟﻨُّﺒُﻮَّﺓَ ﻭَﺍﻟْﻜِﺘَﺎﺏَ
অনুবাদ: আমি নূহ ও ইব্রাহীম এর সন্তানৰ্দের মধ্যে নুবুয়্যত ও কিতাব রেখেছি।
[সূরা হাদীদ-২৬]
অর্থাৎ- হযরত নূহ আলায়হিস্ সালাম ও হযরত ইব্রাহীম আলায়হিস্ সালাম-এর পরে যত নবী এসেছেন সবাই তাঁদের সন্তানদের মধ্যেই হয়েছেন এবং সকল কিতাব সহীফা। তাঁদের উপরই এসেছে। হযরত নূহ আলায়হিস্ সালাম ও হযরত ইব্রাহীম আলায়হিস্ সালাম-এর কারণেই তাঁদের সন্তানদের এই শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন হয়েছে।
❏কুরআনের দলীল ৬ | নবী-বংশের পবিত্রতা
----------------------------------------
ﻳَﺎ ﺑَﻨِﻲ ﺇِﺳْﺮَﺍﺋِﻴﻞَ ﺍﺫْﻛُﺮُﻭﺍ ﻧِﻌْﻤَﺘِﻲَ ﺍﻟَّﺘِﻲ ﺃَﻧْﻌَﻤْﺖُ ﻋَﻠَﻴْﻜُﻢْ ﻭَﺃَﻧِّﻲ ﻓَﻀَّﻠْﺘُﻜُﻢْ ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟْﻌَﺎﻟَﻤِﻴﻦَ
অনুবাদঃ হে ইয়াকুবের সন্তানগণ! ঐ সকল নে'মাতকে স্মরণ কর, যা আমি তােমাদের দান করেছি। এবং সে সময়ে পৃথিবীর মধ্যে তােমাদেরকেই শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছি।
(সূরা বাকারা-৪৭)।
এ আয়াতে কারীমা দ্বারা স্পষ্ট হলাে যে, সে সময়ে হযরত ইয়াকুব আলায়হিস সালাম-এর কারণে তাঁর বংশধরকে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ সম্মান দান করেছিলেন আর আজ বিশ্বে হুজুর আকরাম (ﷺ)-এর কারণেই আওলাদে রাসূল সকল বংশের উপর উঁচু মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারী।
❏কুরআনের দলীল ৭ | নবী-বংশের পবিত্রতা
----------------------------------------
ﻭَﺇِﺫْ ﻗَﺎﻝَ ﻣُﻮﺳَﻰ ﻟِﻘَﻮْﻣِﻪِ ﻳَﺎ ﻗَﻮْﻡِ ﺍﺫْﻛُﺮُﻭﺍْ ﻧِﻌْﻤَﺔَ ﺍﻟﻠّﻪِ ﻋَﻠَﻴْﻜُﻢْ ﺇِﺫْ ﺟَﻌَﻞَ ﻓِﻴﻜُﻤْﺄَﻧﺒِﻴَﺎﺀ ﻭَﺟَﻌَﻠَﻜُﻢ ﻣُّﻠُﻮﻛﺎً ﻭَﺁﺗَﺎﻛُﻢ ﻣَّﺎ ﻟَﻢْ ﻳُﺆْﺕِ ﺃَﺣَﺪﺍً ﻣِّﻦ ﺍﻟْﻌَﺎﻟَﻤِﻴﻦَ
অনুবাদঃ এবং যখন হযরত মূসা আলায়হিস্ সালাম বললাে স্বীয় সম্প্রদায়ের উদ্দেশ্যে, হে আমার সম্প্রদায়! তােমাদের উপর আল্লাহর অনুগ্রহ স্মরণ করাে যে, তিনি তােমাদের মধ্য হতে পয়গাম্বর করেছেন, তােমাদেরকে বাদশাহ করেছেন এবং তােমাদেরকে তাই দিয়েছেন যা আজ সমগ্র জাহানের মধ্যে কাউকেও দেননি।
[সূরা মাইদাহ-২০]
এ আয়াতের মাধ্যমে প্রতীয়মান হলাে যে, কোন গােত্রের মধ্যে নবীর আগমন হওয়া এটা আল্লাহ তাআলার একটি বিশেষ নে'মাত। যার থেকে অন্যান্য গােত্র বঞ্চিত। এ কারণে আওলাদে রাসূলের উপর বিশেষ রহমত হচ্ছে নবীজী তাশরীফ এনেছেন।
❏কুরআনের দলীল ৮ | নবী-বংশের পবিত্রতা
----------------------------------------
ﻳَﺎ ﻧِﺴَﺎﺀَ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲِّ ﻟَﺴْﺘُﻦَّ ﻛَﺄَﺣَﺪٍ ﻣِﻦَ ﺍﻟﻨِّﺴَﺎﺀِ ۚ ﺇِﻥِ ﺍﺗَّﻘَﻴْﺘُﻦَّ
নবী বংশের পবিত্রতা আনুবাদঃ হে নবীর বিবিগণ! যদি তােমরা খােদাভীরুতাকে অর্জন করাে, তাহলে তােমরা অন্য নারীর সমতুল্য নও। (সূরা আহযাব-৩২)
প্রমাণিত হলাে যে, নবী-ই আকরাম [ﷺ] -এর নেক্কার বিবিগণ পৃথিবীর সকল নেককার বিবিগণের চেয়ে উত্তম। কেননা তাঁরা নবীর বিবি। এ কারণেই আহলে বাইতে রাসূলের মধ্যে যারা মুত্তাকী-পরহেযগার তাঁরা পৃথিবীর সকল নেককার পরহেযগার অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ। কেননা তাঁরা নবী-ই আকরামের আওলাদ।
❏কুরআনের দলীল ৯ | নবী-বংশের পবিত্রতা
----------------------------------------
ﺇِﻧَّﻤَﺎ ﻳُﺮِﻳﺪُ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻟِﻴُﺬْﻫِﺐَ ﻋَﻨْﻜُﻢُ ﺍﻟﺮِّﺟْﺲَ ﺃَﻫْﻞَ ﺍﻟْﺒَﻴْﺖِ ﻭَﻳُﻄَﻬِّﺮَﻛُﻢْ ﺗَﻄْﻬِﻴﺮﺍً
হে আমার আহলে বাইত! আল্লাহ্ তা'আলা তােমার্দেরকে সকল প্রকার পাপ-পঙ্কিলতা থেকে মুক্ত ও পূতঃপবিত্র রাখতে চান।
[সূরা আহযাব-৩৩]
এ আয়াতের মাধ্যমে জানা গেল যে, এ দুই এতিম শিশুর প্রতি আল্লাহ তাআলা এ কারণে দয়া পরবশ হয়েছেন যে, তাদের পিতা মুত্তাকী-পরহেযগার ছিলেন। প্রমাণিত হলাে যে, নেককার ব্যক্তির নেক আমলের কারণে সন্তানরা উপকৃত হয়। সে কারণে নবী-ই আকরামের নেক আমলের কারণে আওলাদে রাসূলগণ অবশ্যই উপকৃত হবেন।
❏কুরআনের দলীল ১০ | নবী-বংশের পবিত্রতা
----------------------------------------
ﻭَﺟَﻌَﻠْﻨَﺎ ﻓِﻲ ﺫُﺭِّﻳَّﺘِﻬِﻤَﺎ ﺍﻟﻨُّﺒُﻮَّﺓَ ﻭَﺍﻟْﻜِﺘَﺎﺏَ
অনুবাদ: আমি নূহ ও ইব্রাহীম এর সন্তানৰ্দের মধ্যে নুবুয়্যত ও কিতাব রেখেছি।
[সূরা হাদীদ-২৬]
এ দোয়ার মাধ্যমে বুঝা গেল যে, নবীর আওলাদগণ কখনাে পথভ্রষ্ট হবে না। পক্ষান্তরে, ইসলামের অন্যান্য গােত্র সমূহ পথভ্রষ্ট হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে।
❏কুরআনের দলীল ১১ | নবী-বংশের পবিত্রতা
----------------------------------------
ﻟَﺎ ﺃُﻗْﺴِﻢُ ﺑِﻬَٰﺬَﺍ ﺍﻟْﺒَﻠَﺪِﻭَﺃَﻧْﺖَ ﺣِﻞٌّ ﺑِﻬَٰﺬَﺍ ﺍﻟْﺒَﻠَﺪِ ﻭَﻭَﺍﻟِﺪٍ ﻭَﻣَﺎ ﻭَﻟَﺪَ
অনুবাদঃ হে মাহবুব! আমি ঐ শহরের শপথ করছি, যে শহরে আপনি তাশরীফ এনেছেন। আর আপনার পিতা (পূর্ব পুরুষ) ইব্রাহীমের এবং তাঁর সন্তানের শপথ।
[সূরা বালাদ-১-৩]
"হাসান ও হুসাইন জান্নাতী যুবকদের এবং ফাতেমা জান্নাতী রমণীদের সরদার।"
উলিল আমর নিয়ে ধূম্রজাল
উলিল আমর নিয়ে ধূম্রজাল
কষ্ট হলেও পড়ুন ও শেয়ার করুন
❏❖❏❖❏❖❏❖❏❖❏❖❏
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন,
‘হে বিশ্বাসীগণ! তোমরা আল্লাহর আনুগত্য কর এবং রাসূলের আনুগত্য কর ও তোমাদের নেতৃবৃন্দের আনুগত্য কর। অতঃপর যদি কোন বিষয়ে তোমরা বিতন্ডা কর, তাহ’লে বিষয়টি আল্লাহ ও রাসূলের দিকে ফিরিয়ে দাও। যদি তোমরা আল্লাহ ও আখেরাতের প্রতি বিশ্বাসী হয়ে থাক। এটাই কল্যাণকর ও পরিণতির দিক দিয়ে সর্বোত্তম’ (সুরা নিসা ৪/৫৯)।
উপরোক্ত আয়াতে ঈমানদার ব্যক্তিদের প্রতি আল্লাহ পাকের আদেশস্বরুপ যে বিষয়গুলো পরিষ্কারভাবে ফুটে উঠেছে সেগুলো হলোঃ
❏ ঈমানদারদের জন্য আল্লাহর আনুগত্য করতে হবে।
❏ ঈমানদারদের জন্য রাসূল(স) এর আনুগত্য করতে হবে।
❏ ঈমানদারদের জন্য ধর্মীয় নেতৃবৃন্দদের মেনে চলতে হবে।
❏ তারপরেও যদি বাকবিতন্ডা হয় তবে তা আল্লাহ ও রাসূল(স) এর দিকে ফিরিয়ে দিতে হবে যদি আল্লাহ ও আখেরাতকে বিশ্বাস করে।
❏ এই পন্থাকে কল্যানকর ও পরিনতির দিক থেকে সর্বোত্তম বলা হয়েছে।
অতি সাধারণ দৃষ্টিকোন থেকে উপরোক্ত আয়াতে আমরা এই পাঁচটি জিনিস দেখতে পাই।এই আয়াত থেকে স্পষ্টভাবে যা প্রতীয়মান হয় তা হলো,যা কিছু আমরা আল্লাহর আদেশের মধ্যে পাব তা দ্বিধা সংকোচ ছাড়া মেনে নিব।আল্লাহর আদেশগুলো থেকে কোন কিছু স্পষ্ট ভাবে না পেলে রাসূল(স) এর হাদিস ও সুন্নাহ থেকে তা গ্রহণ করব।যদি এই দুই অপশনের মধ্যে আমরা পরিষ্কার ভাবে সমাধান না পাই সেক্ষেত্রে উলীল আমর তথা ধর্মীয় বিচারকগণ যারা ধর্মের বাণীগুলা নিয়ে গবেষণা করেন, তাদের ফয়সালা মেনে নিব।তারপরও যদি বাক বিতন্ডা কিংবা ফেতনা তৈরি হয় তবে আমরা উলিল আমর তথা ধর্মীয় বিচারকের ফয়সালা মেনে আল্লাহর ও রাসূল(স) এর উপর ছেড়ে দিব।যদি বিচারকগনের ফয়সালা না মেনে পারস্পরিক ঝগড়া বিবাদে লিপ্ত হয়,তবে সেখানে ইসলামের শান্তি বিনষ্ট হবে। এজন্যই যেকোন একজন বিচারকের ফয়সালা মেনে তার দায়ভার আল্লাহর উপর এমনভাবে ছেড়ে দিতে হবে যে,
"হে আল্লাহ এই বিষয়ে আমার কোন জ্ঞান নেই। আপনার এবং আপনার প্রিয় হাবীবের দয়ার আশায় আমি ওমুক নেক বান্দার ফয়সালাকে মেনে নিলাম।যদি এতে আমার ভুল ভ্রান্তি হয়ে থাকে তবে আমাকে ক্ষমা করে দিবেন।"
মুজতাহিদ যদি সমাধান দিতে গিয়ে ভুলও করে তবে তা মেনে নিয়ে আল্লাহ ও রাসূল(স) এর উপর ছেড়ে দিলে উনারা ক্ষমা করে দিবেন।কারন ভুলটি আপনার নয়,মুজতাহিদের। কোরআন ও হাদিসে সমাধান পেতে ব্যর্থ হলে এবং পরিশেষে উলিল আমরদের সমাধানেও যদি বাকবিতন্ডা হয়,তবে এভাবে আল্লাহ ও রাসূল(স) এর উপর ছেড়ে দেয়ার আদেশ আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনে ঈমানদারদেরকে দিয়েছেন। এই পন্থাটিকেই আল্লাহ পাক সর্বোত্তম পন্থা বলেছেন।
কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলো,একদল লোক এটিকে ব্যাখ্যা করছে এভাবে -আল্লাহর আদেশ মানুন,রাসূল(স) এর আদেশ মানুন,তারপরে উলিল আমরদের আদেশ মানুন।তারপরও সমাধান না হলে কোরআন ও হাদিসের দিকে ফিরে যান।আরে ভাই, উলিল আমরতো তিনি নন যিনি কোরআন হাদিসে আছে এমন জিনিস নিজের মনগড়াভাবে আদেশ দেন।বরং উলিল আমর তিনি যিনি যা কোরআন হাদিসে স্পষ্ট আছে তা কোরআন হাদিসের আলোকেই সমাধান করেন।যা কোরআন হাদিসে নেই তা তিনি কোরআন হাদিসের গবেষণালদ্ধ জ্ঞান দ্বারা সমাধান করেন। কোরআন হাদিসে স্পষ্ট নেই এমন জিনিসের সমাধান নিয়ে যদি কখনো বিবাদে জড়িয়ে পরা হয় তখন উলিল আমরের আদেশ মেনে নিয়ে আল্লাহ ও রাসূল(স) এর উপর ছেড়ে দেওয়া হলো আল্লাহর বিধান। প্রশ্ন হলো যেই জিনিস কোরআন হাদিসে নেই বলে উলিল আমরের সমাধানের প্রয়োজন হয়েছে,সেই জিনিস কিভাবে কোরআন ও হাদিসে খুজব?
কেউ যদি আয়াতের অর্থ এভাবে করে যে উলিল আমরের অন্ধ অনুসরণ করা যাবে না, কোরআন হাদিসে ফিরে যেতে হবে -তা নির্বোধ বোকার মতো কথা বৈ ভিন্ন কিছু নয়।অনেকে আবার এটার অর্থ এভাবে করতে চায় যে,
" উলিল আমর মানতে হবে ঠিক আছে, কিন্তু তার অন্ধ অনুসরণ করা যাবে না।ফিরে যেতে হবে কোরআন হাদিসের দিকে।"
আরে ভাই, কোরআন হাদিসের ব্যাখ্যাতো আপনি উলিল আমরদের কাছ থেকেই পাবেন। আর যে বিষয় সরাসরি কোরআন হাদিসে পাবেন না,সে বিষয়ে উলিল আমরদের আদেশ মেনে নেয়ার কথাতো আল্লাহ পাকই বলছেন। আপনি কেন এটাকে অন্ধ অনুসরণ বলছেন?আল্লাহর আদেশ মান্য করাও কি অন্ধ অনুসরণ? অন্ধ অনুসরণ করা যাবে না ঐ সকল লোকের যারা সমাজে ফেতনা সৃষ্টি করে, যাদের আমল আখলাক ঠিক নেই,যারা নতুন ফেরকা সৃষ্টি করে তাকে সহিহ সাব্যস্ত করে ঢোল পিটায় তাদের। যারা এ ধরনের বক্তব্য পেশ করে তারা আল্লাহর রাসূল(স) কে সাধারণ মানুষ হিসেবে গণ্য করে(নাউজুবিল্লাহ)। তাহলে প্রশ্নতো থেকেই যায়,আপনি কার অনুসরনকে অন্ধ অনুসরণ বলছেন?
☛ রাসূল(স) এর অনুসরনকে?
☛ আহলে বাইতের অনুসরণকে?
☛ সাহাবায়ে কেরামের অনুসরণকে?
☛ আউলিয়া কেরামের অনুসরনকে?
☛ ইমাম আবু হানিফা(রহঃ) এর অনুসরনকে?
☛ ইমাম বোখারী(রহঃ) এর অনুসরনকে?
☛ ইমাম মুসলিম(রহঃ) এর অনুসরনকে?
☛ হাদিস ও ফেকাহ শাস্ত্রের ইমামগণের অনুসরনকে?
☛ সুন্নী আলেমদের অনুসরণকে?
নাকি -
☛ মোহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওহাব নজদীর অনুসরণকে?
☛ ওহাবি ফেরকার আলেমদের অনুসরণকে?
☛ লা মাজহাবীদের অনুসরণকে?
অন্ধ অনুসরণ শব্দটি জপার পূর্বে নিরপেক্ষভাবে দেখুনতো আপনি কারো অন্ধ অনুসরণ করছেন কিনা?জেনে রাখুন, আল্লাহর রাসূল (স) এর অনুসরণ কখনো অন্ধ অনুসরণ নয়,সাহাবাদের অনুসরণ কখনো অন্ধ অনুসরণ নয়। যারা আল্লাহ, রাসূল(স) ও সাহাবাদের দেখানো পথে চলেন সেসমস্ত আউলিয়া কেরামের অনুসরন অন্ধ অনুসরণ নয়।ইমাম আবু হানিফা(রহঃ) যিনি দশ লক্ষ হাদিস মুখস্থ জানতেন, তাবেঈনদের যুগে যার ইসলামিক ইলমের দিকে একমাত্র রাসূল(স) এর পবিত্র বংশধর ব্যতীত অন্য কেউ অধিক ইলমের অধিকারী ছিল না,যিনি রাসূল(স) এর পবিত্র বংশধরের অন্যতম সদস্য ইমাম জাফর সাদিক(আ) থেকে জ্ঞান আহরণ করে আমাদের জন্য বিলিয়ে দিয়েছেন উনার অনুসরণ অন্ধ অনুসরণ নয়।
যারা উনাদের অনুসরণকে অন্ধ অনুসরণ সাব্যস্ত করে প্রকারান্তরে নিজেদের অন্ধ অনুসরণের দিকে মানুষকে আহবান করে তারা কি জান্নাতের দিকে মানুষকে আহবান করে নাকি জাহান্নামের দিকে?
আজ আমরা যারা অতি সাধারণ মানুষ, যারা দশটি হাদিস এবারতসহ শুদ্ধভাবে জানি না, যারা জানি না হাদিসের প্রেক্ষাপট কি,শানে নূযুল কি,যারা জানি না এ বিষয়ে আরো কতগুলো হাদিস আছে, কোনগুলো রহিত হয়ে গেছে এবং কোনগুলো মানা যাবে- তারা কি একজন ইমাম বা নেতা বা উলিল আমরের অনুসরণ করবে না?নাকি ফেসবুক,ইউটিউব, এপ্স, পিডিএফ দেখে নিজে নিজে ফতোয়া দিবে?যদি এমনটিই হয় তবে আপনিও ইসলামের একজন আইন বিশেষজ্ঞ। আপনার বুঝ মতো আপনি এক আইন দিবেন, আরেক জন আরেকটি আইন দিবে।এভাবে কয়েকশত কোটি মুসলমানদের মধ্যে একই বিষয়ের অন্তত হাজার খানেক ফতোয়া বের হবে। ফলশ্রুতিতে ইসলামকে নিজের ইচ্ছামত খন্ড বিখন্ড করার অপরাধে আপনি অপরাধী হবেন। আপনি কোরআন হাদিসের বিশদ জ্ঞানের অধিকারী একজন আলেমের কিংবা উলিল আমরের অনুসরনকে অন্ধ অনুসরণ বলছেন, আবার নিজেই নিজের মন মর্জির অন্ধ অনুসরণ করছেন। কার অনুসরনটা আপনার জন্য উত্তম?এতদিন জেনে এসেছি সৃষ্টির সেরা হলো মানুষ। আজকে আপনারা প্রমাণ করতে চাইছেন, আল্লাহ যাকে শ্রেষ্ঠ হিসেবে সৃষ্টি করেছেন তারা শ্রেষ্ঠ নয়।বরং আপনাদের কাছে শ্রেষ্ঠ হলো ফেসবুক, ইউটিউব, গুগল,এপ্স ইত্যাদি।আল্লাহ সাধারণ মানুষকে হেদায়েত করার জন্য অসাধারণ মহামানবদের দুনিয়াতে পাঠিয়েছেন।যারা নবী পাক(স) এর অনুসরনের মাধ্যমে নিজেরা অসাধারণ হয়েছেন তাদের অনুসরণকে বলা হচ্ছে অন্ধ অনুসরণ!! মুসলমানরা নিজের জাতকে হাসিমুখে এভাবেই ছোট করে আসছে ইহুদিদের ষড়যন্ত্রে ফেঁসে গিয়ে। তারা আজকে মুসলমান মহামানবদের কাছে হেদায়েতের আলো পাওয়াকে অন্ধ অনুসরণ বলে,কিন্তু ইহুদিদের সৃষ্ট ফেসবুক, ইউটিউব, গুগলের অনুসরনকে তারা সঠিক হেদায়েত মনে করে। হেদায়েত এখন আশরাফুল মাখলুকাত থেকে যন্ত্রের ভেতরে চলে গেছে।যন্ত্র যদি এতই হেদায়েত দিতে পারে তবে ইমাম মাহদী(আ) জগতে কেন তাশরিফ আনবেন?
আবার, অনেককে এমনও বলতে দেখি যে তারা বলে উলিল আমর মানা ফরজ না।পবিত্র কোরআনে যেখানে আল্লাহ ও রাসূল(স) কে মানার কথা বলে ঐ একই বাক্যে একই সাথে উলিল আমরকে মানার কথা বলা হয়েছে সেখানে আল্লাহ ও রাসূল(স) কে মানার পাশাপাশি কেন উলিল আমরকে মানাও ফরজ হবে না?যেহেতু আল্লাহ ও রাসূল(স)-এই দুই সত্ত্বাকে মানা ফরজ,সেহেতু আল্লাহ পাকের আদেশ অনুযায়ী এই দুই সত্ত্বাকে মানার আদেশের সাথে উলিল আমরদের মানার আদেশ যুক্ত করে দেয়ায় উলিল আমর মানাও ফরজ হয়ে যায়।আর জ্ঞান অর্জনে করা প্রত্যেক মুমিন নর নারীর জন্য ফরজ।এখন উলিল আমর ছাড়া আপনি জ্ঞানটা কার কাছে অর্জন করবেন? যদি জ্ঞান অর্জন করা ফরজ হয়,তাহলে জ্ঞানার্জেনর জন্য শিক্ষকও অত্যাবশ্যকীয় তথা ফরজ। আল্লাহ আমাদের সকলকে হেদায়েত দান করুক। আমিন।
একটি হাসির গল্প যা হৃদয়ে করে রক্তক্ষরণ
হাসতে নাকি জানে না কেউ,
কে বলেছে ভাই?
এই শুন না, কত হাসির
গল্প বলে যাই।
◈ ━━━━━━━ ⸙ ━━━━━━━ ◈
মাঝে মাঝে মন খুলে হাসার ভালো কিছু রসদ খুঁজে পাই।হাসি হার্টের সুরক্ষায় বেশ উপকারী হলেও এই হাসির গল্প গুলো ঈমান ধ্বংস করার টনিক হিসেবেই কাজ করে।আর হাসির এই গল্প গুলো তোঁতা পাখির বুলির মতোই আমাদেরকে শিখিয়ে দেন আমাদের ফেসবুক বরেণ্য, ইউটিউব বরেণ্য আলেম ওলামারা।কি সেই হাসির গল্প?
গল্পের নামঃ
"কারো অন্ধ অনুসরণ করা যাবে না।"
ইউটিউব বরেণ্য আলেমরা প্রায়শই বলিয়া থাকেন, "কাহারো অন্ধ অনুসরণ করা যাইবে না"।
নিজে নিজে বুঝিয়া যাহা ভালো মনে হইবে তাহাই করিয়া লও।লক্ষাধিক হাদিস জানা ব্যক্তির কাছ থেকে ধর্ম শিখিলে হয় অন্ধ অনুসরণ, আর নিজে নিজে দুই চারটে হাদিস পড়িয়া, হাদিসের মর্মার্থ না বুঝিয়া মন মর্জি মতো ধর্ম পালন করিলে তাহা কিঃ
☛ ধর্মের সহিহ অনুসরণ, নাকি
☛ ধর্মের অন্ধ অনুসরণ, নাকি
☛ অন্ধের অন্ধভাবে ধর্ম অনুসরণ বলিয়া বিবেচ্য হইবে?
ওই সকল ফেসবুক ও ইউটিউব বরেণ্য ওলামারা বলিয়া থাকেন, কাহারো অন্ধ অনুসরণ করা যাইবে না।অথচ, তাহাদেরই অন্ধ অনুসরণ করার জন্য তাহারা ও তাহাদের ভক্তবৃন্দ মাঠে,ময়দানে, ফেসবুক ও ইউটিউবের চিপা গলিতে নিরলস পরিশ্রম করিয়া যাইতেছেন।জামায়াতে ইসলামির অনুসারীরা মওদূদীর অন্ধ অনুসরণ করিতেছে। আহলে হাদিসের অনুসারীরা তাহাদের আলেমদের অন্ধ অনুসরণ করিতেছে। প্রত্যেকেই নিজ গোত্রীয় আলেমদের অন্ধ অনুসরণে ব্যস্ত।তদুপরি, জামায়াতি ও লা মাজহাবী আলেমরা মার্কেটে এক ডায়লগের প্রচার করিতেছেন। তাহারা বলিতেছেন, "কাহারও অন্ধ অনুসরণ করা যাইবে না"।আচ্ছা, তাহলে অনুসরণ করিতে হইবে কাহার?
তাহারা মুখে বলিতেছে, অনুসরণ কর কোরআন ও সহিহ হাদিস। কিন্তু বাস্তবে দেখাইতেছে অন্ধ অনুসরণ কর ফেসবুক, ইউটিউব, গুগল,প্লে ষ্টোরে থাকা জামায়াতি ও লা মাজহাবী আলেমদের আর্টিকেল,ভিডিও লেকচার ইত্যাদি।তাহারা আকারে ইঙ্গিতে এবং প্রকাশ্যে বোঝানোর চেষ্টা করিতেছে যে অনুসরণ কর তাহার যাহার ওয়াজে দশ লক্ষ মানুষ হয় যদিও তাহাদের অধিকাংশই রাজনৈতিক ব্যক্তি।অথবা অনুসরণ কর তাহাদের যাহারা ফেসবুকে লক্ষ লক্ষ ফলোয়ার নিয়া আনন্দের অট্টহাসি হাসিতেছেন যদিও তাহা টাকা খরচ করিলেই কেনা যায়।ইহাদের এহেন সার্কাসময় হাস্যকর দ্বিমুখী কর্মকান্ড দেখিয়া হাসিতে চাইলেও হাসিতে পারি না। ইহা ঈমানদারদের অন্তর সমূহে প্রতিনিয়ত রক্তক্ষরন ঘটাইয়া যাইতেছে।
সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২০
মুসলিম জাতি কার পদাঙ্ক অনুসরণ করবে?
মুসলমান জাতি যখন ইবলিশের পদাঙ্ক অনুসারী পরাজয় তাদের গলার মালা
◑ ━━━━━ ▣ ━━━━━ ◐
শিশু ইসমাঈল(আ) এর পবিত্র পায়ের আঘাতে সৃষ্ট জমজমের পানি খাওয়া কি শিরক?পা ছিল ঈসমাইল(আ) এর। কিন্তু রহমতের পানির ধারা প্রবাহিত করেছেন স্বয়ং রাব্বুল আলামিন।তাই ঐ পানি পান করা শিরক নয়।বরং ঐ পানি থেকে আমরা রহমত ও বরকত লাভ করি।
অলি আউলিয়াগনের উছিলায় আল্লাহর কাছে চাওয়া কি শিরক?
হযরত ঈসমাইল(আ) এর পা মোবারকের উছিলায় যদি মানব জাতি কেয়ামত পর্যন্ত রহমত ও বরকতময় পবিত্র পানি পেতে পারে, তবে স্বয়ং উম্মতে মোহাম্মদীর মধ্যে আল্লাহর একজন অলির উছিলায় কেন দোয়া কবুল হতে পারে না?আল্লাহ পবিত্র কোরআনে তাকে পাবার জন্য উছিলা তালাশ করতে বলেছেন। আল্লাহর আদেশ মান্য করাও কি শিরক?যখন তাদেরকে উছিলা তালাশের আয়াত পেশ করা হয় তখন তারা বলে কোরআন,মক্কা শরীফ ইত্যাদির উছিলা দিয়ে আল্লাহর কাছে চাইতে।সমস্যা নেই আপনি ঐগুলার উছিলায় চাইতে পারেন। কিন্তু অলিদের উছিলাকে নিষেধ কেন করছেন?কিসের শত্রুতা?কোরআন কিংবা মক্কা শরীফ আল্লাহ নয়,তেমনি আল্লাহর অলিও আল্লাহ নয়।প্রত্যেকটিই হলো সৃষ্টি। সৃষ্টির মধ্যে সেরা মানুষ। মানুষের মধ্যে সেরা নবী রাসূলগন ও আল্লাহর অলিরা।সুতরাং,নবী রাসূলগন ও আল্লাহর অলিদের উছিলায় চাওয়াই উত্তম। আপনি হয়তো বলতে পারেন, আমাদের প্রিয় নবীর উছিলায় আপনি চাইবেন। এর জন্য আপনাকে হাজারো সালাম।কিন্তু অলিদের উছিলা দিতে আপনার অপছন্দ। তখন আল্লাহ নিশ্চয় আপনার এমন কর্মকে পছন্দ করবেন না।আপনি আল্লাহর কাছে চাইতে গিয়ে যেমন নবী রাসূলগনকে অবজ্ঞা করতে পারেন না, তেমনি আল্লাহর কোন মকবুল বান্দাকেও অবজ্ঞা করতে পারেন না। আপনি আল্লাহর জন্য মাঠে ময়দানে টাকার বিনিময়ে ওয়াজ করা ব্যক্তিদের ভালোবাসতে পারেন।কিন্তু আপনি আল্লাহকে পাবার জন্য আল্লাহর অলিদের ভালোবাসতে পারেন না-এটা কি আপনার বদ নসিব নয়?ঐ সকল আলেমদের বর্জন করুন যারা বিভিন্ন কৌশলে আল্লাহর প্রিয় বান্দাদের থেকে আপনাকে দূরে সরাতে চায়। জেনে রাখুন আল্লাহর পছন্দনীয় বান্দাদের থেকে মুসলমানদের দূরে সরানো ইহুদিদের একটি চক্রান্ত।কারণ, মুসলমানরা যতই আল্লাহর অলিদের থেকে দূরে সরে যাবে ততই তারা আল্লাহর রহমত বঞ্চিত হবে। যেমন বর্তমান জমানায় মুসলমানদের বড় একটি অংশ আউলিয়াগন থেকে দূরে সরে গেছে। ফলস্বরূপ ইহুদিরা পৃথিবীর কলকাঠি নাড়ছে। আজ থেকে কয়েকশত বৎসর আগেও আউলিয়াদের প্রতি সম্মান ছিল।আর তখন পৃথিবী শাসন করত মুসলমানরা।ইবলিশ আল্লাহর প্রিয় বন্দার প্রতি সম্মান জানতে অসম্মতি করায় বেহেশত থেকে বিতারিত এবং লাঞ্চিত। আর বর্তমান জমানায় মুসলমানরা আল্লাহর অলিদের সম্মান জানাতে অসম্মতি জ্ঞাপন করার দুনিয়াতে হারিয়েছে তাদের রাজত্ব। আর ইবলিশের পদাঙ্ক অনুসরণ করে তারা আখেরাতে কি পাবে সেটা বুঝতে পারা কি খুব কঠিন?
এর নাম কি ইসলাম?
ধইরালা,কাইট্টালা,মাইরালা,জবাই কর,তুই বেদাতি, তুই মাজার পূজারী,তুই শিন্নী খোর-ইসলামে শিন্নী নিষেধ, তুই জিলাপি খোর-জিলাপি খাওয়া বেদাত -এসবের জ...












